মো. শফিকুল ইসলাম মতি, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক নারী ও তার পরিবারের ওপর মব সৃষ্টি করে হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে থানা থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, উপজেলার সৈয়দেরখোলা এলাকার বৃদ্ধা সাফিয়া বেগমের সঙ্গে একই এলাকার প্রভাবশালী শহিদুল্লাহ মোক্তারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২২ জুন দুপুরে শহিদুল্লাহ মোক্তার তার দলবল নিয়ে মিথ্যা মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে সাফিয়া বেগমের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুরসহ লুটপাট করে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। হামলায় সাফিয়া বেগমের হাত ভেঙে যায়। এছাড়া তার মেয়ে সুমনা ও নবম শ্রেণির এক নাতি আহত হয়। পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করলেও থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী সাফিয়া বেগম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানার ভিত্তিতে প্রধান আসামি শহিদুল্লাহ মোক্তারকে গ্রেপ্তার করা হলে তার পক্ষের লোকজন রাতে থানায় এসে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে প্রতিপক্ষ শহিদুল্লাহ মোক্তার হামলার ঘটনা আংশিক স্বীকার করলেও বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ করেন। তবে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, তাকে ছাড়িয়ে নিতে লোকজন থানায় গেলেও তিনি নিজেই তাদের শান্ত করেন এবং হামলা থেকে বিরত রাখেন। পরদিন সকালে পুলিশ তাকে আদালতে পাঠালে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এ বিষয়ে শিবপুর থানা কর্মরত এস আই কামরুল ইসলাম জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগটি ভিত্তিহীন। মব সৃষ্টি করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং আহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা বা মাদক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানায় পুলিশ। থানায় আসামিপক্ষের লোকজন জড়ো হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রভাবশালী আসামিদের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। তারা যেকোনো সময় প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন বলে জানিয়েছেন। এলাকাবাসী মব সৃষ্টিকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।