রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
আন্ডারওয়্যারে কোটি টাকার ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণ! শাহ আমানত বিমানবন্দরে ভারতীয় যাত্রী আটক বিজিবির মানবিক উদ্যোগ: পঞ্চগড়ে সীমান্তবর্তী প্রায় ৫০০ প্রান্তিক মানুষ পেল বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ তৃণমূলের ক্রীড়া প্রতিভা তুলে আনাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য- প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি ধামরাইয়ে বাজারের সড়ক দখলমুক্ত ও অবৈধ দোকান উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন সব উপজেলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার মেগা প্রকল্পের ডিজাইন চূড়ান্ত হচ্ছে ….স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আধুনিক প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাঁতশিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে —বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের বোমা সদৃশ বস্তু বোমা নয়; আতস্কিত না হওয়ার আহবান ডিএমপির ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিঃ অল্প সময়েই অনন্য সাফল্য: প্রায় দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের খুলনা কমিটিতে বিতর্কিত প্রকৌশলী জুয়েল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সার্বজনীন মানবিক দর্শনের বিকাশ জরুরি —-তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের খুলনা কমিটিতে বিতর্কিত প্রকৌশলী জুয়েল

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

খুলনা ব্যুরো :

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের উপপ্রধান প্রকৌশলী এবং বর্তমানে প্রেষণে খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের খুলনা বিভাগীয় লোকাল কমিটির সদস্য সচিব করায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ভবন নির্মাণে অনিয়ম, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, ঠিকাদারকে বিল পরিশোধে সহায়তা, নিয়মিত বিলম্বে অফিসে উপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ রয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রশাসনিক চিঠিতে এসব অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তদন্ত কমিটির নথিপত্র অনুযায়ী, কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন, যা তৃতীয় একাডেমিক ভবন নামে পরিচিত, তার নির্মাণকাজে ত্রুটি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবনটির ৩৩৪১ ও ৩৩৪২ নম্বর কক্ষসহ কয়েকটি কক্ষে চলাচলের সময় অস্বাভাবিক কম্পন অনুভূত হতো। বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুসন্ধান ও পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনে মেঝের পুরুত্ব এবং রডের বিন্যাসে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে অসংগতি পাওয়া যায়।

নথিতে আরও বলা হয়, নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকাকালে আরিফুল ইসলাম জুয়েল সাময়িকভাবে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। দেশে ফেরার পর প্রয়োজনীয় যাচাই ও পরীক্ষা ছাড়াই তিনি অনুপস্থিত সময়ের পরিমাপ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর ভিত্তিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধে সহায়তা করা হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০৫তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদ থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে অবনমনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য তার পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগও রয়েছে। গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের সই করা একটি চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিজিটাল হাজিরার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৫৪ কার্যদিবসের প্রতিদিনই তিনি দেরিতে অফিসে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ দিন নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ওই সময়ে তিনি দৈনিক গড়ে ২ দশমিক ৮৬ ঘণ্টা কর্মস্থলে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নির্মাণকাজে অনিয়ম, কাজ শেষ হওয়ার আগে বিল পরিশোধসহ কয়েকটি অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনার অনুসন্ধানেও তার নাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে ওই অনুসন্ধান এখনো চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খুলনা বিভাগীয় লোকাল কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে সদস্য সচিব করা হয়।

কমিটি গঠনের প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন আন্দোলন, মামলা, হামলা ও কারাবরণ করা নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিতর্কিত একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদের কয়েকজন নেতা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনে সততা, যোগ্যতা ও ত্যাগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে শাস্তিপ্রাপ্ত এবং নানা অভিযোগে আলোচিত একজন কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করার সিদ্ধান্ত ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।

তারা আরও বলেন, কমিটি গঠনের বিষয়টি এত দিন কেন ব্যাপকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিএনপির ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে এমন সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক বলেও তারা মনে করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের খুলনা কমিটির সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102