আলী আহসান রবি :
ওসাকা(জাপান), ০৬ আগস্ট ,২০২৬:
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, জাপানসহ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বাংলাদেশের তরুণদের ভাষা শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে প্রস্তুত করা হবে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশে জনশক্তি পাঠানো নয় বরং দক্ষ, ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন ও বিশ্বমানের মানবসম্পদ গড়ে তোলা।
আজ জাপানের ওসাকার একটি স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে ওসাকা ও কোবেতে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের তরুণরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁদের আন্তর্জাতিক মানের ভাষা শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় গড়ে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। জাপানের মতো উন্নত দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে তা দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানসম্মত কারিগরি শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, মেধাবী কোনো শিক্ষার্থী যেন শুধু অর্থের অভাবে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারিয়ে না ফেলে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বিদেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পরামর্শ ভবিষ্যতে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ গঠনের নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মতবিনিময়ে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে জাপানি ভাষা শিক্ষার মানোন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জাতীয় মাননিয়ন্ত্রণ (অ্যাক্রেডিটেশন) ব্যবস্থা চালু এবং ভাষা শিক্ষকদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জাপান ছাড়াও সম্ভাবনাময় অন্যান্য দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি), তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা এবং জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাপান থেকে শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও অটোমোটিভ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কাজে লাগানোর জন্য সুস্পষ্ট নীতিগত সহায়তার প্রস্তাবও তুলে ধরেন।
অংশগ্রহণকারীদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ববি হাজ্জাজ বলেন, জাপানি ভাষা শিক্ষার মানোন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রণয়ন, ভাষা শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে আসা তরুণদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা শিল্প, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
মতবিনিময় সভায় দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, প্রবাসী পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।