কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের উলুকান্দি পশ্চিমপাড়া গ্রামে এক কৃষকের ফসলি জমি কেটে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মো. জাকির হোসেন (৬৩) তিতাস থানাসহ তিনটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, গত ৬ জুন শনিবার রাত থেকে ৭ জুন রবিবার ভোরের মধ্যে উপজেলার উলুকান্দি পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৭ জুন রবিবার সকালে একই গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিন ভূইয়ার ছেলে মো. রোমেল ভূইয়া (৪২)-এর বিরুদ্ধে তিতাস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জাকির হোসেন। একই সঙ্গে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পৃথক লিখিত আবেদনও জমা দেন।
ভুক্তভোগী জাকির হোসেন উলুকান্দি পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত হাজী আবদুল বাতেন ভূইয়ার ছেলে। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, কালাইগোবিন্দপুর মৌজায় অবস্থিত ২৮ শতাংশ ফসলি জমির বৈধ মালিক তিনি। পৈত্রিক ও খরিদসূত্রে অর্জিত এ জমি দীর্ঘদিন ধরে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।কিন্তুনরোমেল ভূইয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির ওপর দিয়ে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করে আসছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে ভেকু (খনন) মেশিন দিয়ে জমির মাটি কেটে রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তাঁরা অভিযুক্তকে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে গত ৬ জুন রাত থেকে ৭ জুন ভোরের মধ্যে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা ভেকু মেশিন ব্যবহার করে জমির মাটি কেটে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাকির হোসেন জানান, রবিবার ভোরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান তার ফসলি জমির ওপর রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে মামলা-মোকদ্দমা না করার জন্য ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ করায় তার কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগে কালাইগোবিন্দপুর মৌজার সাবেক ৭৩৬ এবং হাল ২১৪৪ ও ২১৪৫ নম্বর দাগভুক্ত ২৮ শতক জমির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. রোমেল ভূইয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “তার জমি থেকে যে পরিমাণ মাটি কাটা হয়েছে, সে পরিমাণ মাটি আবার তার জায়গায় ভরাট করে দেওয়া হবে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাদ মেম্বার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সমাধান করে দিয়েছেন।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক। সংবাদ সংগ্রহ সাংবাদিক রীপন ।