কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় ছাত্র-জনতা। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে হোমনার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় আল রশিদ প্লাজার সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাইজুদ্দিন শাজু, জেলা ছাত্র দলের সাবেক সহ সভাপতি মো. সেলিম মাষ্টার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক জাহিদুর রহমান অপু, সদস্য সচিব সাজ্জাদ হোসেন, হোমনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম ইসলাম ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. ইউনুস আহম্মদ প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা সমাজে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে এবং আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দিন দিন বাড়ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগের আহ্বান জানান।
জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক দম্পতি অটোরিকশাযোগে স্ত্রীর বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে কৃষি ইনস্টিটিউটের নিকটে ওপারচর গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে। পরে স্বামীকে আটকে রেখে নির্জন স্থানে নিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে হোমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রধান আসামি আশিকুর রহমানসহ বাকিরা এখনো অধরা রয়েছে।
হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।