মাহমুদ আল-হাছান, বিশেষ প্রতিনিধি :
নীলফামারী, ২০ এপ্রিল, রবিবার
দেশব্যাপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জনবল সংকট শিক্ষার মান ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরিচালিত একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়েই প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকের যথেষ্ট অভাব দেখা যায়। যে বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক থাকার কথা সেখানে রয়েছে ৩ জন সর্বোচ ৪ জন করে শিক্ষক। প্রত্যন্ত শহরাঞ্চলের স্কুলগুলোতে শিক্ষকের ঘাটতি কম থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এ সমস্যা অত্যন্ত প্রকট। সাধারনত নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক/শিক্ষিকাগন প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুলগুলোতে চাকুরি করতে চায় না এবং নিয়োগ পেলেও নানা রকম তদ্বির করে ২/১ বছরের মধ্যেই সেখান থেকে শহরে চলে যাওয়ার মানসিকতাই এই শিক্ষক সংকটের প্রধান কারন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারি শিক্ষা অফিসার। তিনি বলেন, সবাই শহরে কিংবা খুব জোর শহরতলীতে পোস্টিং পেতে মুখিয়ে থাকে এবং এজন্যে অনৈতিক লেনদেনও হয়ে থাকে। এর ফলে গ্রামের স্কুলগুলোর শিক্ষক সঙ্কট দূর করা সম্ভব হচ্ছে না।
এর সাথে রয়েছে দপ্তরী কাম প্রহরী এবং আয়া বা পরিচ্চ্ছন্নতা কর্মীর অভাব। দেশে মোট ৬৫ হাজার ৫৫৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ইতিপূর্বে আওয়ামীলীগ সরকার দুই ধাপে মোট ৩৭ হাজার বিদ্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরি নিয়োগ দিলেও পরে অজ্ঞাত কারনে অবশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে দপ্তরি নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিদ্যালয়গুলোতে এক অস্বাভাবিক বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে আছে। অর্ধেক বিদ্যালয়ে দপ্তরি থাকলেও প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয় দপ্তরি শুন্য। এসব বিদ্যালয়ের দপ্তরির কাজটিও শিক্ষকগনকে এমনকি প্রধান শিক্ষককেই সম্পন্ন করতে হয় ফলে অনেক শিক্ষক মানসিকভাবে বিষয়টি নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাদের হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অবশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে দপ্তরি নিয়োগের বিষয়টি সম্পুর্ন ঝুলে আছে এবং পদটি পুরনে মন্ত্রনালয়ের কোনো তৎপরতাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
দেশের কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়েই আয়া বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কোনো পদ নেই। ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের এসব স্কুল সাধারনত প্রতিদিন খুব অপরিচ্ছন্ন হয়ে থাকে এবং শিক্ষক/শিক্ষিকাদের নিজেদেরই এসব পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হয়। মাঝে মাঝে ছাত্র ছাত্রীদের সহায়তা নেয়া হলেও মুলতঃ কাজটি শিক্ষকরাই করে থাকেন। এটা নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ রয়েছে। কিন্ত সরকারি চাকুরি করার কারনে তারা তাদের মানসিক অসন্তষ্টির বিষয়টি প্রকাশ করতে পারছেন না। মানসম্মত শিক্ষার জন্যে মানসম্মত পরিবেশ অত্যন্ত জরুরী। অথচ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের কোনো তৎপরতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
এর মধ্যে দেশের কিছু কিছু উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে যার আওতায় বিদ্যলয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের রুটি, কলা, ডিম পরিবেশন করা হচ্ছে। দপ্তরি এবং আয়া না থাকায় এসব স্কুলে এই কাজগুলো শিক্ষকদেরকেই করতে হচ্ছে এবং এর ফলে শিখন শেখানো কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। খাবার পরিবেশন করতে গিয়ে শিক্ষার আসল কাজটিই ব্যাহত হচ্ছে বলে দেখা গেছে। বিদ্যালয়গুলোর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী এবং আয়া বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ অতীব জরুরী বলে মনে করেন শিক্ষা সচেতন নাগরিকগন।