রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
পিতার রাজনৈতিক অস্তিত্বে কন্যার রাজনৈতিক বলবান নীরব ভাঙনের গল্প: সাইলেন্ট ডিভোর্সের অদৃশ্য বাস্তবতা মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেনের সাথে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুননের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ করেন মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের নতুন ডিজি শায়লা শার্মিল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জনবল সঙ্কট, শিক্ষার মান ব্যাহত করছে রানীশংকৈলে সেফটিক ট্যাংকে পড়ে যুবকের মৃত্যু আশুলিয়ার জামগড়া ৫ তালা একটি ভবনে গলায় ফাঁ”স দিয়ে যুবকের আত্ম”হত্যা! পোল্ট্রি খাত সংশ্লিষ্টদের জনস্বার্থে কাজ করতে হবে —মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতি মন্ত্রী নৌপরিবহন অধিদপ্তর কতৃক কর্ণফুলী নদীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ১১টি মামলায় অর্থদণ্ড হোমনায় গণধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল জনতা, ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

নীরব ভাঙনের গল্প: সাইলেন্ট ডিভোর্সের অদৃশ্য বাস্তবতা

এম হোসাইন আহমদ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

এম হোসাইন আহমদ, বিশেষ প্রতিবেদনঃ “সাইলেন্ট ডিভোর্স” বা নীরব বিচ্ছেদ—সমসাময়িক সমাজে ক্রমেই আলোচিত একটি বাস্তবতা। এটি এমন এক অবস্থা, যেখানে স্বামী-স্ত্রী আইনগতভাবে একসঙ্গে থাকলেও তাদের সম্পর্কের ভেতরের প্রাণশক্তি ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যায়। বাইরে থেকে একটি স্বাভাবিক সংসার মনে হলেও ভেতরে জমে থাকে দূরত্ব, নিরবতা ও অদৃশ্য বিচ্ছিন্নতা।

বিবাহ কেবল একটি সামাজিক বা ধর্মীয় চুক্তি নয়; এটি ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি মানবিক সম্পর্ক। কিন্তু বাস্তব জীবনে নানা কারণে এই ভিত্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে সম্পর্কটি ধীরে ধীরে ফাঁপা হয়ে যায়। তখন এক ছাদের নিচে বসবাস করেও স্বামী-স্ত্রী যেন দুই ভিন্ন জগতের মানুষ হয়ে ওঠেন। প্রয়োজন ছাড়া কথা হয় না, আবেগের আদান-প্রদান কমে যায়, আর একসময় প্রিয় মানুষটিই হয়ে ওঠে কেবল একজন সহবাসী।
সাইলেন্ট ডিভোর্স হঠাৎ করে তৈরি হয় না। এটি মূলত দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষ, অবহেলা ও অপ্রকাশিত কষ্টের ফল। ছোট ছোট ভুল বোঝাবুঝি, যোগাযোগের অভাব, পারস্পরিক অসম্মান, একে অপরকে সময় না দেওয়া কিংবা বিশ্বাসঘাতকতার মতো বিষয়গুলো ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভেতরে অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে। এই দেয়াল একসময় এতটাই শক্ত হয়ে যায় যে, তা ভাঙার সাহস বা আগ্রহ—দুটোই হারিয়ে যায়।
অনেক দম্পতি এই অবস্থায় থেকেও আইনি বিচ্ছেদের পথে এগিয়ে যান না। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করে—সন্তানদের ভবিষ্যৎ, পারিবারিক সম্মান, সামাজিক চাপ, আর্থিক নির্ভরতা বা অনিশ্চয়তার ভয়। ফলে তারা সম্পর্কের ভেতরের শূন্যতা মেনে নিয়েই একই ছাদের নিচে জীবন চালিয়ে যান। বাইরে থেকে সংসার টিকে থাকলেও ভেতরে ভেতরে তা হয়ে ওঠে নিঃসাড়, প্রাণহীন।
এই নীরব বিচ্ছেদের প্রভাব শুধু দম্পতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি সন্তানদের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। একটি পরিবারে যদি ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও উষ্ণতার অভাব থাকে, তাহলে সেই পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা মানসিকভাবে অনিরাপদ বোধ করতে পারে। তারা সম্পর্কের প্রতি আস্থা হারাতে পারে, কিংবা ভবিষ্যতে সুস্থ সম্পর্ক গড়তে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে উঠতে পারে।
সাইলেন্ট ডিভোর্সের সবচেয়ে জটিল দিক হলো—এটি দৃশ্যমান কোনো সংকট নয়। এখানে কোনো উচ্চস্বরে ঝগড়া নেই, আদালতের মামলা নেই, কিংবা আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের ঘোষণা নেই। তবুও সম্পর্কের ভেতরের বন্ধন অনেক আগেই ভেঙে যায়। এই নীরবতা তাই অনেক সময় প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
তবে এই পরিস্থিতি এড়ানো অসম্ভব নয়। একটি সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খোলামেলা যোগাযোগ। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা, অপরজনের কথা মন দিয়ে শোনা এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা—এই তিনটি বিষয় সম্পর্ককে জীবন্ত রাখে। ছোটখাটো সমস্যাকে অবহেলা না করে সময়মতো সমাধান করার চেষ্টা করা জরুরি। পাশাপাশি একে অপরকে সময় দেওয়া, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং সম্পর্কের মূল্য বোঝা—এসবই নীরব দূরত্বকে কমাতে সহায়ক।
সবশেষে বলা যায়, সাইলেন্ট ডিভোর্স কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়; এটি ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া এক নীরব ভাঙন। এই ভাঙন এড়াতে প্রয়োজন সচেতনতা, আন্তরিকতা এবং সম্পর্কটিকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছা। কারণ একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য শুধু একসঙ্গে থাকা যথেষ্ট নয়—একসঙ্গে অনুভব করাটাও সমান জরুরি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102