বিশেষ প্রতিনিধিঃ রংপুর চেম্বার অফ কমার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ (RCCI School & College)-এ ক্লাস পার্টিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া খাবার অব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের গণঅসুস্থতার ঘটনা অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০/৩৫০ টাকা করে নেওয়া হলেও সরবরাহ করা হয় নিম্নমানের এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব খাবার সরবরাহ করে রংপুরের জাহাজ কোম্পানির মোড় সংলগ্ন ‘হাড়ি মিষ্টি ও কনফেকশনারী’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
নিম্নমানের খাবার খেয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী অসুস্থ
অভিভাবকরা জানিয়েছেন—খাবার গ্রহণের পরপরই অসংখ্য শিক্ষার্থী জ্বর, পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া ও সর্দি-কাশিসহ নানা উপসর্গে আক্রান্ত হয়। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, যারা অভিভাবক বা শিক্ষক হিসেবে একই খাবার গ্রহণ করেছিলেন, তারাও একই ধরনের অসুস্থতায় ভুগছেন। বহু পরিবার এখনো সন্তানদের চিকিৎসা নিয়ে দিশেহারা।
এই উদ্বেগের মধ্যে সামনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য খাবার সরবরাহের দায়িত্ব একটি মিষ্টির দোকানের উপর কেন এবং কোন সুপারিশে দেওয়া হলো? সাধারণত কনফেকশনারি দোকান বড় অনুষ্ঠানের খাবার সরবরাহ করে না। তবুও এমন একটি বড় অর্ডার ‘হাড়ি মিষ্টি ও কনফেকশনারীকে’ দেওয়ার পেছনে কার স্বার্থ জড়িত—তা অভিভাবকরা জানতে চান।
খাদ্য সরবরাহে অবহেলা—দায় কার?
অভিভাবকদের অভিযোগ স্পষ্ট—যারা এই নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করেছে, যারা এই সরবরাহকারীদের সুপারিশ করেছেন এবং যারা খাবারের মান যাচাই না করেই বাচ্চাদের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন—তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা উচিত। তাদের মতে, একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন অবহেলা অগ্রহণযোগ্য ও অমার্জনীয়।
RCCI স্কুলের প্রশাসন, প্রিন্সিপাল, গভর্নিং বডি এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হলে দায়িত্ব থেকে কেউই অব্যাহতি পেতে পারেন না।
পরীক্ষা স্থগিত, কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কষ্ট কমেনি
ঘটনা জানাজানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ২৩ ও ২৪ নভেম্বরের পরীক্ষা স্থগিত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। যদিও এই পদক্ষেপটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও অভিভাবকদের মতে—এটি সমাধান নয়। বাচ্চারা এখনো অসুস্থ, মানসিকভাবে দুর্বল, এবং পরীক্ষার চাপ সামলাতে অক্ষম।
অভিভাবকদের আর্থিক ক্ষতি, চিকিৎসার ব্যয়, ছুটোছুটি—সব মিলিয়ে পরিবারগুলো মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। চার দিন অতিবাহিত হলেও এখনো অধিকাংশ ভুক্তভোগী হাসপাতাল বা বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
‘হাড়ি মিষ্টি ও কনফেকশনারী’ দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে—ক্ষমতার উৎস কোথায়?
অভিভাবকদের অভিযোগ—যে প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খাবার দিয়ে শত শত শিক্ষার্থীকে অসুস্থ করে তুলেছে, সেই হাড়ি মিষ্টি ও কনফেকশনারী এখনো নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে—তাদের পেছনে কি কোনো ক্ষমতাধর মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে? নাকি স্কুলের ভেতরে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ বা ভাগাভাগির সম্পর্ক আছে?
এমন একটি মিষ্টির দোকান কীভাবে এত বড় স্কুল ইভেন্টের খাবারের অর্ডার পেল—এ বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে জানান অভিভাবকরা।
স্কুল কর্তৃপক্ষের বাসায় গিয়ে খোঁজ নেওয়া—প্রশংসনীয় হলেও দায়িত্ব এড়ানোর উপায় নয়
এদিকে স্কুল প্রশাসন অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু করেছে। অভিভাবকরা এটিকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা করলেও মনে করছেন—এটি মূল দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা নয়। কারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হওয়া থেকে শুরু করে খাবার নির্বাচন, মান যাচাই ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল অবহেলাপূর্ণ।
অভিভাবকদের দৃঢ় অবস্থান: প্রয়োজন হলে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও অভিযোগ দাখিল করা হবে
অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন—যদি দ্রুত তদন্ত না হয়, দোষীদের চিহ্নিত না করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে তারা যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন এবং প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ দাখিলের উদ্যোগ নেবেন।
প্রশাসনের কাছে জরুরি আবেদন
১. ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত
২. খাবার সরবরাহকারী ‘হাড়ি মিষ্টি ও কনফেকশনারী’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
৩. কার সুপারিশে অর্ডার দেওয়া হয়েছিল তা উদঘাটন
৪. RCCI স্কুল প্রশাসনের দায় নির্ধারণ
৫. ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা-সহায়তা
৬. পরীক্ষার বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত
অভিভাবকদের সোজা প্রশ্ন—শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও জীবন যদি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, তাহলে দায় কে নেবে?
আরো বিস্তারিত তথ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ নিউজ আসছে