হোসেন আলী, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) :
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মেরে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির সহকারি প্রধান শিক্ষক পরিমল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উক্ত শিক্ষককে শোকজ পত্র দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
নিয়মিত স্কুলে না যাওয়া ও পড়া না পারায় এমন সাজা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ছাত্রের নানা বিশ্বনাথ গাইন মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার বৈকন্ঠপুর গ্রামের সজল হালদারের ছেলে স্বাধীন হালদার কোনেরভিটা গ্রামে মামাবাড়ি থেকে তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে অস্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। স্বাধীন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছিল না। বিষয়টি স্কুল কতৃপক্ষ জানা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ে নিয়মিত না আসা ও শ্রেণিকক্ষে পড়া না পারার কারনে গত ৩০ নভেম্বর সহকারি প্রধান শিক্ষক পরিমল বিশ্বাস সজল হালদারের কানের উপর একাধিক থাপ্পর মারেন। এতে সজলের কানের পর্দা ফেঁটে রক্ত বের হয়ে যায়। বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানায় ওই শিক্ষার্থী।
সজলের নানি ফুলমালা গাইন বলেন, এ বিষয়ে আমরা বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষকেরা আমাদের চুপ থাকতে বলেন। বেশি বাড়াবাড়ি করল স্বাধীনকে লাল টিসি দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন ইতি বিশ্বাস নামের এক ম্যাডাম। সজলকে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক পরিমল বিশ্বাসকে পাওয়া যায় নি। বিদ্যালয় থেকে জানানো হয় তিনি ছুটিতে রয়েছে। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিদ্যালয় থেকে সটকে পড়েন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মিহির বিশ্বাস। তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। নাম না প্রকাশের শর্তে অস্টম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানান, উক্ত শিক্ষক খুব রগচটা। তিনি অযথাই শিক্ষার্থীদের মারধোর করেন। তার স্ত্রী পার্শ্ববর্তী উপজেলা কালকিনিতে থাকেন। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়েও আসেন না।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, বিষয়টি আমি আজ (মঙ্গলবার) সকালে জানতে পারি। এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজ উক্ত শিক্ষককে শোকজ পত্র দিয়েছেন। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
০৫/১১/২৫
০১৭৩১৮৬৮৩৯০