স্টাফ রিপোর্টার:
গাইবান্ধা পৌরসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক বাজার হকার্স মার্কেট। প্রতিদিন এখানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। কিন্তু নির্দিষ্ট সেড থাকা সত্ত্বেও বাজারে যত্রতত্র পশু ও পাখি জবাই করা হচ্ছে। এসব বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলে রাখায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে হর্কাস মার্কেট বাজারে দেখা গেল এই চিত্র।
ভুক্তভোগী আলম মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বাজারে মুরগি ব্যবসায়ীরা রাস্তা দখল করে মুরগি জবাই করে রক্ত, নাড়িভুঁড়ি ও মলমূত্র যত্রতত্র ফেলে রাখে। ফলে দুর্গন্ধে নাক চেপে বাজারে প্রবেশ করতে হয় ক্রেতা–বিক্রেতাদের। এতে বাজারে লোকসমাগম দিন দিন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি চা–স্টল, হোটেলসহ খাদ্যদ্রব্যের দোকানগুলোতে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
অথচ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে পৌরসভা ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে মুরগি জবাইয়ের জন্য পৃথক সেড নির্মাণ করেছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেগুলো ব্যবহার না করায় অযত্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বাজারের পরিবেশও নোংরা হয়ে পড়ছে।
এদিকে জাহাঙ্গীর আলমসহ একাধিক ব্যবসায়ী ও ক্রেতা অভিযোগ করেন, বাজারের ড্রেনের ওপরই খাসি জবাই করা হয়। রক্ত, নাড়িভুঁড়ি ও বর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হয়ে যায়। পশু জবাইয়ের আগে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না থাকায় অনেক কসাই রোগাক্রান্ত বা অপরিণত বয়সী পশুও জবাই করছে। এমনকি ভেড়া জবাই করে খাসির মাংস হিসেবে বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছে।
ভোক্তারা বলেন, পৌরসভার অনুমোদিত সিল ছাড়া পশু জবাই বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু কোনো তদারকি না থাকায় কসাইরা ইচ্ছেমতো পশু জবাই করছে, এতে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা এবং নানা রোগের ঝুঁকিতেও পড়ছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পৌর প্রশাসক একেএম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, “বাজারে অনিয়মের বিষয়টি আমরা জানি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মুরগি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সব সমস্যা সমাধান করা হবে।”