আলী আহসান রবি :
শনিবার, ১৭ শ্রাবণ (১ আগস্ট ২০২৬)
টাঙ্গাইলে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং তাঁতপণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
শনিবার টাঙ্গাইলে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবনির্মিত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. শরীফুল আলম, এমপি।
মো: শরীফুল আলম বলেন, নবনির্মিত তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার শুধু একটি ভবন বা অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষ তাঁতি, কারিগর ও উদ্যোক্তা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে তাঁতিদের আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবর্তিত ফ্যাশন, নতুন নকশা, পণ্যের গুণগত মান, বাজার বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল বিপণন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর প্রশিক্ষণার্থীদের শুধু সনদ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাঁদের দক্ষতা অনুযায়ী টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, স্পিনিং মিল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের শাড়ি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, গর্ব ও আবেগের প্রতীক। টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পণ্যের নকশা, মান, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনব্যবস্থায় আধুনিকতা আনতে হবে। ‘এক গ্রাম, এক পণ্য-ফিরিয়ে আনব হারানো ঐতিহ্য’ ধারণাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের শাড়িসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, বেনারসি, রেশম ও দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য বাংলাদেশের পরিচয় বহন করছে। এসব পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ই-কমার্স ব্যবহারে তাঁতিদের দক্ষ করে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে রপ্তানিমুখী তাঁত, বস্ত্র, পাট ও জিআই পণ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মো: শরীফুল আলম বলেন, তাঁতপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থলবন্দর ব্যবহারে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রং, সুতা ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির সুবিধা যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের পরিবর্তে প্রকৃত তাঁতিরা সরাসরি পান, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তাঁতিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা, সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
টাঙ্গাইলের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কটন মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিলটি একসময় এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মিলটি পরিদর্শন করেছেন। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মিলটি চালু করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে তাঁতিরা আধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে উৎপাদিত পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়াতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, তাঁতিদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প আরও শক্তিশালী হবে। এ শিল্পের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এসময় অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।