আলী আহসান রবি :
ঢাকা, ০১ আগস্ট, ২০২৬
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত সার্জিও গোর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ দূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি মার্কিন সরকারের দৃঢ় আস্থা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এই আস্থার নিদর্শনস্বরূপ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য তাদের বিদ্যমান ভ্রমণ পরামর্শে একটি ইতিবাচক সংশোধন করেছে। তিনি আরও বলেন, এটি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ দূত আগের দিন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনকালে তাঁর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গাদের জন্য প্রদত্ত আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকেরও বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং তাদের সমর্থনের জন্য তিনি মার্কিন সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ দূত রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান অর্জনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
উভয় পক্ষ মার্কিন খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশে পরীক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতেও সম্মত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বৃহত্তর মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি সয়াবিন, তুলা, গম এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের গুদামজাতকরণ সুবিধায় মার্কিন বিনিয়োগেরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই খাতগুলোতে বিনিয়োগ একটি শক্তিশালী ও অধিক প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের জোরালো আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন।
বিশেষ দূত মন্তব্য করেন যে, এই খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগে অংশীদার হতে পারে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান; প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমাইউন কবির; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন; ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম; বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।