সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের মেঞ্জারগাঁও গ্রামে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারী-শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বর্ণের দুটি চেইন ছিনিয়ে নেওয়া, এক নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোছা. জুহেনারা বেগম।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টার দিকে টিপু আহমদের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জুহেনারা বেগমের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ধারালো দা, লোহার রড, কাঠের রুইল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
গ্রাম বাসীরাও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, টিপু সরকারি চাকরীজীবি হয়েও প্রতিবেশির প্রতি মারমূখি আচরন ও তার নেতৃত্ব দেওয়া টা ঠিক হয় নাই, তাই (তার) বিচার হওয়া উচিত।
হামলা কারীদের মধ্যে ফরিদ মিয়া ফ্যাসিষ্স আমলের থানার দালাল ছিল, তার কাজ ছিল মানুষের মধ্যে দ্বন্দ লাগিয়ে উভয়ের কাজ থেকে সুবিধা ভোগ করা, মাদকের সাথে ও জড়িত বলে জানা যায়।
এ হামলায় মহিতুন নেছা, রাবিয়া বেগম, নাহিদা আক্তার, আবু সুফিয়ান ও শিউলী আক্তার আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং একজনের হাত ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় এক নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ ২৫ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া শিউলী আক্তারের গলায় থাকা একই মূল্যের আরও একটি স্বর্ণের চেইনও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার পর অভিযুক্তরা মামলা বা বিচার-সালিশের চেষ্টা করলে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগে বালিজুড়ী ইউনিয়নের মেঞ্জারগাঁও গ্রামের টিপু আহমদ, আব্দুল্লাহ, শিপন মিয়া, ফরিদ মিয়া ও শাহারা বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমদ ছুটিতে আছেন, (ওসি) তদন্ত কে ফোন দিলে তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।