নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার আশুলিয়ায় অপরাধ চক্রের চাঁদাবাজির তথ্য সংগ্রহ এবং মাদক কারবারি গ্রেপ্তারের জের ধরে এক পেশাদার সাংবাদিককে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। এতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আশুলিয়ার ইস্টার্ন হাউজিং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাণ্ডব চালায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মো. সাগর দেওয়ান এবং তার সহযোগীরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. শেখ রাসেল ‘জাতীয় দৈনিক এই আমার দেশ’ পত্রিকার সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামগড়া থেকে ছয়তলা পর্যন্ত সরকারি রাস্তায় অবৈধ দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজির তথ্য সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক শেখ রাসেল। অন্যদিকে, একই দিনে বিকেল আনুমানিক ৬টার দিকে আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মরন (২৩) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এই ঘটনার পরপরই বেপরোয়া হয়ে ওঠে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসার মূল আশ্রয়দাতা মো. সাগর দেওয়ান ও তার গ্যাং। সাংবাদিক শেখ রাসেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়েছেন এমন সন্দেহে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে সন্ত্রাসীরা।
একপর্যায়ে শেখ রাসেলকে না পেয়ে আশুলিয়ার ছয়তলা হাউজিং এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গালিগালাজ করতে করতে টহল দিতে থাকে সাগর ও তার সহযোগীরা। তারা প্রকাশ্যে ওই সাংবাদিককে দেখা মাত্র গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ পথচারী ও অন্য গণমাধ্যমকর্মীরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকাবাসী একজোটে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসী চক্রটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে সাগর দেওয়ানের নেতৃত্বে এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র অবাধে মাদক ব্যবসা, সরকারি রাস্তায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের অপরাধের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করলে কিংবা পুলিশকে তথ্য দিলে তাকেই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়।
ক্ষুব্ধ পথচারী ও স্থানীয়রা বলেন, সংবাদকর্মীরা দেশ ও জাতির জন্য কাজ করেন। চাঁদাবাজির তথ্য তুলে ধরায় যদি সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়, তবে গণমাধ্যমকর্মীরা কাজ করবেন কীভাবে তারা অবিলম্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাগর দেওয়ানকে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।
এ ঘটনায় সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে পেশাদার সাংবাদিককে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতা, আইনের শাসন ও জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টিকে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ইতিমধ্যে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
সচেতন মহলের মতে, সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবে কার্যকর করতে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধী ও চাঁদাবাজ সাগর দেওয়ান চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।