বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
জুলাই শহীদদের গেজেট ও কবর সংরক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী রাশিয়া : কম দামে দিতে চায় ইউরিয়া সার ঝিকরগাছায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের শ্লীলতাহানির অভিযোগের পর ‘থলের বিড়াল’ বের হতে শুরু করেছে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে — মষমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন কুমিল্লা তিতাসে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা কুমিল্লা তিতাস উপজেলা বিএনপিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের তিতাস উপজেলা নবগঠিত কমিটির ফুলেল শুভেচ্ছা সরকার ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন কর্মসংস্থান ও সুশাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্ভুল অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর

দড়িগাঁও গঙ্গাপ্রসাদ খাল পুনর্খনন শেষ হয়নি নির্ধারিত সময়ে, ৪৫ লাখ টাকা ফেরত

মো: রমিজ উদ্দিন
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা তিতাস, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় দড়িগাঁও কাঠালিয়া নদী থেকে গঙ্গাপ্রসাদ পর্যন্ত খাল পুনর্খনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সঠিক তদারকি ও পরিকল্পনার অভাবে প্রকল্পের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠাতে হয়েছে। জনস্বার্থে গ্রহণ করা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্প ও অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের দড়িগাঁও কাঠালিয়া নদী থেকে গঙ্গাপ্রসাদ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন এবং ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ০৬৭ কিলোমিটার খাল খনন করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৩ কিলোমিটার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্ধেকেরও কম কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির অভিযোগকে সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রকল্পটির সার্বিক তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তিতাস উপজেলার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান। প্রশাসনিক তদারকি ও নিয়মিত মনিটরিং থাকা সত্ত্বেও কেন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আর্থিক হিসাব অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়া কাজের জন্য শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে মোট ৩১ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই প্রতিটি টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।” তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সময়মতো প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা এর সুফল পেতেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণে তারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
যদিও ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্পে তদারকি আরও জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবুও এবারের ব্যর্থতার দায় কে নেবে সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102