কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের প্রায় একশ বছরের পুরোনো একটি সম্পত্তিকে ঘিরে ওয়ারিশ সনদে জালিয়াতি, দুই বৈধ উত্তরাধিকারীর নাম গোপন এবং সেই সনদের ভিত্তিতে একক নামে খারিজ খতিয়ান গ্রহণের অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নারান্দিয়া ইউনিয়নের আলোচিত ১১ শতক জমির মধ্যে মইদুর সওদাগর বৈধ দলিলের মাধ্যমে ৮ শতক এবং বজলু রহমান ৩ শতক জমি আউয়াল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ক্রয় করেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি দীর্ঘ প্রায় দেড়শ বছর ধরে আউয়ালের পিতা মরহুম মোহাম্মদ আলীর দখলে ছিল। এছাড়া সিএস, আরএস ও বিএস রেকর্ড এবং দলিলপত্রেও জমির মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য বিদ্যমান রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান খোকার সহযোগিতায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মির্জা হোসাইন নামে এক ব্যক্তি তার পিতা শিরু মিয়াকে মরহুম আবদুর রহমানের একমাত্র উত্তরাধিকারী দেখিয়ে একটি ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ওই সনদের ভিত্তিতেই একক নামে খারিজ খতিয়ান গ্রহণ করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মরহুম আবদুর রহমান ১৯৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে—আক্কাস আলী ও শিরু মিয়া এবং এক মেয়ে—জাবেদা বেগমকে রেখে যান। অথচ বিতর্কিত ওয়ারিশ সনদে আক্কাস আলী ও জাবেদা বেগমের নাম সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে শুধু শিরু মিয়াকেই একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের আইনগত অধিকার ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিরু মিয়া প্রকৃতপক্ষে নারান্দিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ওই সনদে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক হোসেনের প্রত্যয়ন ও স্বাক্ষর রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন ভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দার বিষয়ে অন্য ওয়ার্ডের সদস্য কীভাবে তথ্য প্রদান ও প্রত্যয়ন করলেন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া কীভাবে চেয়ারম্যান ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করলেন?
এ ঘটনায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, আবদুর রহমান ১৯৬০ সালে মৃত্যুবরণ করলেও বহু বছর পর তার নামে কীভাবে বিএস রেকর্ডে তথ্য অন্তর্ভুক্ত হলো এবং সেই রেকর্ডের ভিত্তিতে অন্যের নামে জমির নামজারি সম্পন্ন হলো—তা রহস্যে ঘেরা। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি নথিতে কোনো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, মরহুম আবদুর রহমানের উত্তরাধিকারী হিসেবে আক্কাস আলী, শিরু মিয়া ও জাবেদা বেগম—এই তিনজনই এলাকায় সুপরিচিত। ফলে সরকারি ওয়ারিশ সনদে যদি কেবল একজনকে উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখানো হয়ে থাকে, তবে অপর দুই উত্তরাধিকারীর নাম কোন যুক্তিতে বাদ দেওয়া হলো—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর এখনও মেলেনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সুপরিকল্পিতভাবে দুই বৈধ ওয়ারিশের নাম গোপন করে ওয়ারিশ সনদ সৃজন, সেই সনদের ভিত্তিতে একক নামে খারিজ খতিয়ান গ্রহণ এবং শতবর্ষের পুরোনো সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তারা এ ধরনের ভূমি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অসাধু চক্র জাল ওয়ারিশ সনদ বা ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে অন্যের সম্পত্তি আত্মসাতের দুঃসাহস দেখাতে না পারে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের কয়েকজন বৃদ্ধ মুরব্বি বলেন,
সীরু মিয়া প্রকৃত অর্থে ৫ নং ওয়াড এর বাসিন্দা, কিন্তু ৪ নং ওয়াড মেম্বার ফারুক মিয়া কি ভাবে ৫ নং ওয়াডের সীরু মিয়ার ওয়ারিশ তথ্য প্রদান করে আবেদন পাঠায়, এদূর্নীতির শেষ কোথায়?
চেয়ারম্যান কিভাবে এ ওয়ারিশ সাটিফিকেট দিলো ? মরহুম আঃ রহমান ১৯৬০ সনে মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যু ব্যক্তির নামে ৫৫ বছর পরে কি ভাবে বি,এস পর্চা হয়? তাও আবার অন্যজনের নাম জারি ভুমি !! কি তার রহস্য ? এই মির্জা নারান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক সেই ক্ষমতার বলে সাদা কাগজ রাতারাতি পর্চা’বনে গেলো ? ভুক্তভোগী রা তার বিচায় চায় ? এ ধরনের নোংরা ভুমি খেকো দেরকে আইনের আওতায় এনে সাজা দেওয়া জন্য প্রসাশনের কাছে দাবি জানাচ্ছি! সংবাদ সংগ্রহ সাংবাদিক এস এ ডিউক।