সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
কোহিনূর হত্যার বিচার হবেই, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস এমপি সেলিম ভূঁইয়ার নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টাপর মিলল মৃদুলার সন্ধান টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নদী রক্ষায় এডিবি’র সহযোগিতা প্রত্যাশা পানিসম্পদ মন্ত্রীর ৫৫ লক্ষ কার্ডধারী প্রতি কেজি ১৫/- টাকা দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ পাবেন সাভারে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি’র অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার! জুলাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে — স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবুজ পরিবেশ গড়তে বোয়ালিয়া থানায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ডিএসসিসি’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যে স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত আন্ডারওয়্যারে ‘গোল্ড পেস্ট’! দুবাইফেরত যাত্রীর অভিনব কৌশল ভেস্তে দিল সিআইআইডি

ঈদ এলেই টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে ওঠে কামার পল্লী

মো: রমিজ উদ্দিন
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
পবিত্র ঈদুল আযহা ঘনিয়ে এলেই কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। আর সেই আমেজের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে কামার পল্লীর টুংটাং শব্দ। কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কামার শিল্পীরা। দিনভর আগুনের উত্তাপ আর হাতুড়ির আঘাতে তৈরি ও শান দেওয়া হয় দা, চাপাতি, ছুরি, কাঁচি ও বটি।
গত রোববার বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাতাকান্দি বাজারের বটতলার কামার পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, চারটি দোকানেই চলছে বিরামহীন কর্মযজ্ঞ। কেউ পুরোনো দা-ছুরি শান দিচ্ছেন, কেউ আবার নতুন চাপাতি তৈরি করছেন। ঈদ সামনে রেখে ক্রেতাদের চাপও বেড়েছে কয়েকগুণ।

এই কামার পল্লীর সবচেয়ে প্রবীণ কারিগর ৯৬ বছর বয়সী কানু কর্মকার। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও এখনো আগুনের পাশে বসে কাজ করেন তিনি। কথা হলে আবেগঘন কণ্ঠে জানান, তাঁর বাবা ক্ষেত্র মোহন কর্মকারের হাত ধরেই এ পেশায় আসা। বর্তমানে ছেলে খোকন কর্মকারও একই পেশার সঙ্গে জড়িত। তিন পুরুষ ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যই তাদের জীবনের অবলম্বন।

কানু কর্মকার বলেন,
“বাবার কাছ থেকেই এ কাজ শিখেছি। প্রায় ৪০ বছর ধরে বাতাকান্দি বাজারের বটতলায় দোকান দিয়ে কাজ করছি। এই কাজের আয় দিয়েই সংসার চলে।”
আরেক কারিগর টুটুল কর্মকার (৩৫) জানান, তাঁর বাবা অনিল কর্মকারও দীর্ঘ ৩০ বছর এই বাজারে কামারের কাজ করেছেন। বাবার স্মৃতি আর বংশীয় পেশাকে ধরে রাখতেই তিনি গত ১৮ বছর ধরে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছেন।
তিনি বলেন,
“এটা শুধু পেশা না, আমাদের ঐতিহ্য। বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতেই এখনো এ কাজ করে যাচ্ছি।”
এদিকে তাজুল ইসলাম নামের আরেক কারিগরও প্রায় এক দশক ধরে এই বাজারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ঈদ মৌসুমকে ঘিরে কাজের চাপ বাড়লেও আধুনিক যন্ত্রপাতির যুগে ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
তবুও জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিদিন আগুনের উত্তাপে ঘাম ঝরিয়ে চলেছেন বাতাকান্দি বাজারের কামার শিল্পীরা। ঈদ এলেই তাই টুংটাং শব্দে আবারও প্রাণ ফিরে পায় ঐতিহ্যের এই কামার পল্লী।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102