আলী আহসান রবি :
৩ আগস্ট ২০২৬
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), আঞ্চলিক কার্যালয়, চট্টগ্রাম আবারও অভিনব কৌশলে স্বর্ণ চোরাচালানের একটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে।
আজ (৩ আগস্ট ২০২৬) দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট নং BG148-এ শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত বাংলাদেশি যাত্রী মোহাম্মদ তুসার (৩৩)-কে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারিতে রাখা হয়। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর EL0102972 এবং স্থায়ী ঠিকানা দিঘলগাঁও, পিপুলিয়া বাজার, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা।
বিমানবন্দরে অবতরণের পর সিআইআইডির তথ্যের ভিত্তিতে DGFI, NSI এবং কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে যৌথ নজরদারি পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে কাস্টমস হলে দেহ তল্লাশিকালে অভিযুক্তের অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় স্বর্ণের পেস্ট ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১৪০০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের পেস্ট (প্যাকিং মেটিরিয়ালসহ) এবং ৫টি স্বর্ণের চুড়িসহ প্রায় ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার। অর্থাৎ মোট প্রায় ১৫০০ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। আটককৃত স্বর্নের আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকা। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পাসপোর্ট, একটি REDMI (মডেল: 23021RAAEG) মোবাইল ফোন এবং বোর্ডিং পাস জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি এড়িয়ে স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে স্বর্ণকে পেস্টে রূপান্তর করে অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে আনা হয়েছিল। তবে গোয়েন্দা তথ্য ও সমন্বিত অভিযানের ফলে চোরাচালানের এ অভিনব কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে।
এ ঘটনায় কাস্টমস আইন, ২০২৩, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭, আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০, আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪, বাংলাদেশ ব্যাংকের FE Circular No-06 এবং The Special Powers Act, 1974-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সিআইআইডি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণসহ অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।