জাকির হোসাইন, উল্লাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন করুন। জনগণকে জিম্মি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। জনবিস্ফোরণ ঠেকাতে পারবেন না। তা না হলে ফ্যাসিবাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
রোববার (২ আগস্ট) সকালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা জামায়াতের আমীর ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খাইরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “নির্বাচনের আগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে জনগণের সমর্থন নেওয়া হলো। কিন্তু সেই ভোটে জয়ী হওয়ার পরও কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না? জাতির সঙ্গে আর কত তামাশা করবেন? দেশের সাধারণ মানুষকে আর কত ধোঁকা দেবেন?”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের কথা কি আপনাদের মনে পড়ে না? আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের আর্তনাদ কি আপনাদের কাছে পৌঁছায় না? আমরা আপনাদের শত্রু নই। দীর্ঘদিন একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে আপনাদের ওপর ফ্যাসিবাদের ছায়া ভর করেছে। আমরা আশা করি, আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবেন। অন্যথায় ফ্যাসিবাদের পরিণতি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সলঙ্গা জামায়াতের আমীর রাশেদুল ইসলাম শহীদ, উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, উপজেলা নায়েবে আমীর ড. নজরুল ইসলাম, উপজেলা অফিস সম্পাদক আব্দুল বারী, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম মুত্তালিব, পৌর আমীর আব্দুল করিম, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমানসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।
সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুলিস্তান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাপনী বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমীর ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলী।