সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন ডিএনসিসির প্রায় ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিআরসি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ এডিবির দ্রুত এবং সময়োপযোগী অর্থনৈতিক সাড়া ও অর্থায়ন দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ——- অর্থ মন্ত্রী দেশের সম্পদ মাটির নীচে রেখে আমদানি ভিত্তিক জ্বালানি নির্ভরতা বাড়িয়ে দেশের অনেক ক্ষতি করা হয়েছে, জ্বালানি মন্ত্রী নিরাপদ হাট ব্যবস্থাপনা ও জাল টাকা প্রতিরোধে সরকারের সর্বাত্মক ব্যবস্থা রয়েছে —মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী কুমিল্লা তিতাসের বলরামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সম্ভাব্যপ্রার্থী লিটন শিকদারকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে হাম (measles) পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসা সামগ্রী অনুদান দিলো আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি/ICRC) ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শাহজাদপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে এবং দোষীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত 

কোরবানির চামড়া ও উপজাত সংরক্ষণে অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

আলী আহসান রবি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি :

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কোরবানির পশুর মাংসের পাশাপাশি চামড়া ও অন্যান্য উপজাত সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব।

আজ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এ অনুষ্ঠিত “কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬ (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম)”-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালা আয়োজন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বণ্টনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। এ বাস্তবতায় দক্ষ জনবল তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে চামড়া ছাড়ানোর মতো সংবেদনশীল কাজে প্রশিক্ষিত জনবল না থাকলে চামড়ার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর বাজারমূল্য কমে যায়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট তরুণদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে কোরবানির সময় দক্ষ জনবল তৈরি করা যেতে পারে। এতে একদিকে চামড়ার গুণগত মান উন্নত হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা ও স্বল্পমেয়াদি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজনে সারা বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করবে, যাতে কোরবানির সময় দক্ষতার অভাব না থাকে।

মন্ত্রী আরো বলেন, কোরবানির চামড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাদ্রাসায় দান করা হয়। এ বাস্তবতায় চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহসহ সরকারি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। সঠিকভাবে চর্বি পরিষ্কার, লবণ প্রয়োগ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে চামড়ার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দেশীয় উৎপাদন দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম। দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থে অবৈধভাবে পাচার বা চোরাই পথে আসা পশু ক্রয়ের বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কোরবানির ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান আরও বাড়বে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন-এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

তিনি বলেন, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ বা চোরাই পথে পশু প্রবেশের ঘটনা ঘটে। তিনি দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে অবৈধভাবে আসা পশু বর্জনের আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে নয়, সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। যুবসমাজকে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দেশীয় উৎপাদন, খামারি ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন। এসময় স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ মোঃ বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডাঃ বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এ. বি. এম. খালেদুজ্জামান।

কর্মশালায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102