মাহমুদ আল-হাছান, বিশেষ প্রতিনিধি :
২৫ অক্টোবর, শনিবার
জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী গ্রামে পুর্ব শত্রতার জের ধরে প্রতিবেশী সাধনা রাণী রায় (২৫) কে মেরে রক্তাক্ত করেছেন পুলিশের মহিলা সদস্য নীলিমা রানী রায় (লিমা) (২৫)। ঘটনার বিবরনে প্রকাশ, বগুলাগাড়ী গ্রামের দরীদ্র সুনীল রায়ের মেয়ে সাধনা রানী রায়ের বিয়ে হয় ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী গ্রামে। একটি শিশু সন্তানের জননী সাধনা কয়েকদিন আগে বাবার বাড়ী বেড়াতে আসে। গতকাল শুক্রবার সাধনা তার প্রতিবেশী পুলিশের কনস্টেবল নীলিমা রানী লিমার বাড়ীর কাছাকাছি গেলে পুূর্বের শত্রুতা বশত নীলিমা রানী সাধনার পথরোধ করে এলোপাথারী কিলঘুষি মারতে থাকে। নীলিমার ভাই পলাশ চন্দ্র এসে সাধনার দুই হাত পেছন থেকে চেপে ধরলে সিজারিয়ান রোগী সাধনার তলপেটে নীলিমা সজোরে লাথ্থি মারে, এর ফলে সাধনার নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে এলে সাধনার পরিবারের লোকজন ছুটে এসে তাকে ভ্যানে তুলে জলঢাকা হাসপাতালে পাঠায়।
জলঢাকা হাসপাতালে সাধনা এই প্রতিবেদককে জানান যে, পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে নীলিমা তাকে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে আজ হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ারও চেষ্টা করে। সাধনা জানায়, নীলিমা পুলিশ সদস্য ও এলাকার প্রভাবশালী হিসাবে আমি যেনো আইনের আশ্রয় নিতে না পারি সেজন্যে বিভিন্নভাবে হুমকী ধামকি দিচ্ছে ও আমার বাবা ভাইকে রাস্তায় পেলে মারামারি করার জন্যে তার পরিবারের সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে পাহাড়া দিচ্ছে। সাধনার স্বামী সুকুমার রায় তার স্ত্রীর খোঁজখবর নেওয়ার জন্যে আজ তার শ্বশুর বাড়ী যাওয়ার সময় নীলিমার বাড়ীর কাছাকাছি গেলে নীলিমার ভাই সহ পরিবারের লোকজন লাঠি, দা, কুড়াল নিয়ে তাঁকে আক্রমনের চেষ্টা করে। দৌড়ে পালিয়ে কেনোরকমে প্রাণে রক্ষা পান বলে জানান সুকুমার রায়। সাধনার পরিবার অত্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানান সাধনার পিতা সুনীল রায়।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ সদস্য নীলিমা রানী রায় যিনি বর্তমানে রংপুর জেলার তারা গঞ্জ থানায় কর্মরত আছেন, তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন এবং বলেন যে সাধনার সাথে আমার শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে, কোনো মারধরের ঘটনা সেখানে ঘটে নাই। “সাধনা কিভাবে রক্তাক্ত হলো” প্রশ্নের জবাবে নীলিমা জানান যে, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জলঢাকা থানায় অভিযোগ করার প্রক্রিয়া চলছিলো বলে জানা গেছে।