বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
১০ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে খিলগাঁও থানা পুলিশ কুমিল্লা তিতাসে জামায়েত ইসলামির আয়োজনে সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের সম্মাননায় ইফতার মাহফিল কুমিল্লা তিতাসের কলাকান্দি ইউনিয়নে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার আহ্বান — মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খানজাহান আলী থানা জামায়াতের ইফতার মাহফিল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সাথে ভারতের হাইকমিশনার Pranay Verma-এর সৌজন্য সাক্ষাৎ গণভোটের রায়কে আদালতে নিয়ে আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে —– নাহিদ ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে অপতথ্যের বিরুদ্ধে সাধারন যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ —বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী শ্রমিকদের বড় অংশ এখনও অনানুষ্ঠানিক, আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনার তাগিদ —-বাণিজ্যমন্ত্রীর খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির শতভাগ বই পরিমার্জন হবে, শারীরীক ও মানসিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক —শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী

মানবজীবনের পবিত্রতা—কোরআন ও হাদিসের আলোকে হত্যা, আলেম-নিপীড়ন ও রাষ্ট্রীয় দায়বোধ

ফারজানা ফারাবী
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২০২ বার পড়া হয়েছে

ফারজানা ফারাবী, ধর্মীয় ডেক্সঃ ইসলাম মানবজীবনের মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা যদি আমরা সচ্চরিত্রভাবে মেনে চলি, তাহলে হত্যা, নির্যাতন ও আলেমদের প্রতি অবিচার দূর হয়ে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সক্ষম হবে। নীচে কোরআন-আয়াত ও প্রামাণ্য হাদিস উদ্ধৃতিসহ প্রাসঙ্গিক দিকগুলো তুলে ধরা হলো, যেন প্রত্যেক পাঠক হৃদয় থেকে সতর্ক হয় এবং দায়িত্ববোধ জাগে।

কোরআন থেকে মর্মস্পর্শী নির্দেশনা:
“এই কারণেই আমরা ইস্রায়ীল সন্তানের কাছে আমাদের নির্দেশ লিপিবদ্ধ করেছিলাম — যে কেউ একজন মানুষের প্রাণ নেয় (বিনা আইনগত কারণে), সে যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করেছে; আর যে একজনকে বাঁচায়, সে যেন গোটা মানবজাতিকে বাঁচিয়েছে।” (সূরা আল-মায়িদা, ৫:৩২ — বাংলা ভাবার্থ)। এই আয়াতটি মানবজীবনের মূল্য ও হত্যার ভয়াবহ ফল সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে সতর্ক করে; এক প্রাণের বিনাশ যেন সমগ্র মানবতার বিনাশের সমতুল্য আंका হয়েছে — কেমন স্তম্ভিত করা সত্য!

আরও এক আয়াতে ভূমিকা ও দায়িত্বের ব্যাপারে নির্দেশ আছে: “এবং (মনুষ্যরা) যাদের আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন, তাদের (প্রাণ) হত্যা করিও না।” (সূরা আল-ইসরা/বনী-ইস্রাঈল, ১৭:৩৩ — বাংলা ভাবার্থ)। কোরআন বারবার বলে—জীবন নষ্ট করা নিষিদ্ধ; বিচার ছাড়া কারো রক্ত নেওয়া ইসলামে যায় না।

ন্যায়বিচার ও শাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব-সম্পর্কিত নির্দেশ:
আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ—“ন্যায়বিচারের দায় আপনাদের উপর অবধারিত” এই মর্মেই কোরআনে বহু স্থানে নেতা, বিচারক ও সমাজকে সতর্ক করা হয়েছে। (ধারণাগতভাবে সূরা আন-নিসা, সূরা আল-মায়েদা ইত্যাদি আয়াতগুলো ন্যায়বিচারের গুরুত্ব জোর দেয়)। তাই রাষ্ট্র ও শাসক-প্রতিষ্ঠানগুলো আইননিষ্ঠতা নিশ্চিত করে, জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করে—এখানেই তাদের মৌলিক দায়বোধ।

হাদিসের তাক৬ীদ ও আলেমদের মর্যাদা:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—“العلماء ورثة الأنبياء” (আল-উলামা ওয়ারসাতুল আনবিয়া) — “আলেমরাই নবীদের উত্তরাধিকারী।” (জামি‘ তিরমিজিতে উল্লেখ নির্দেশযোগ্য)। হাদিসের এই বাণী থেকে বোঝা যায়—আলেমরা শুধুমাত্র তথ্যবিদ নয়; তারা হেদায়েত, ধর্মীয় নৈতিকতা ও সমাজকে পথপ্রদর্শন করে। তাই আলেমদের উপর নির্যাতন, তাঁদের কোণঠাসা করা বা গ্রন্থনশীলতা নিবারণ করা মানে সমগ্র ঐতিহ্যগত জ্ঞানবাহিত সমাজকে আহত করা। আলেমদের সঙ্গে যে কোন রকম সহিংস আচরণ—ইসলাম কঠোরভাবে নিন্দা করেছে।

অত্যাচার-নিপীড়ন প্রতিরোধে কোরআন-হাদিসের প্রাসঙ্গিক শিক্ষা বাস্তবায়ন:
প্রথমত, ব্যক্তিগত দায়: প্রত্যেক মুসলিমকে নিজের অন্তরে সহানুভূতি, ধার্মিকতা ও ন্যায়বোধ জাগাতে হবে। কোরআন নির্দেশ করে যে অন্যকে বাঁচানোকে আল্লাহ মহান কর্ম হিসেবে গণ্য করেন; তাই শত্রুতা, হিংসা বা ‘মান-হানির’ আবেগে কারো প্রাণ নেওয়া চলবে না। (সূরা আল-মায়িদা, ৫:৩২ প্রসঙ্গ)।

দ্বিতীয়ত, সামাজিক দায়: সমাজকে বলবৎ করতে হবে—নির্যাতিত ও দুর্বলদের পাশে দাঁড়াতে; সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুসারে কাজ করে আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে; জালিমদের বিশিষ্টতা প্রশ্রয় না দেওয়া এবং সমাজ থেকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা। সহিংসতার সংস্কৃতি প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও শিক্ষা জরুরি।

তৃতীয়ত, রাষ্ট্রীয় দায়: কোরআন-সুন্নাহ অনুসারে শাসক ও বিচারব্যবস্থাকে ন্যায়পরায়ণ হতে হবে—আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অবিচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেখানে বিচার দুর্বল বা পক্ষপাতদুষ্ট, সেখানেই নির্যাতন ও বেআইনি হত্যার প্রবণতা বাড়ে। অতএব রাষ্ট্রকে নাগরিক নিরাপত্তা, আলেমদের সুরক্ষা ও স্বাধীনতা, এবং অপরাধীদের নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে সমাজে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

উপসংহার—একটি আহ্বান:
কোরআন ও হাদিসের জীবনসংরক্ষণ, ন্যায়বিচার ও আলেম-মর্যাদার নির্দেশনার আলোকে আমাদের প্রত্যেকের উপর বিশাল দায়বোধ রয়েছে। হত্যা বন্ধ করতে, আহলে (আলেম) ও সাধারণ মানুষের প্রতি নির্যাতন রোধ করতে, সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং রাষ্ট্রকে দায়িত্ববোধসম্পন্ন করতে—চিন্তা ও কর্মের সমন্বয় জরুরি। ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তৃত করা, সমাজে সহায়ক কাঠামো গঠন, এবং রাষ্ট্রের কাছে আইনি দাবিসমূহ পৌঁছে দেওয়া—এই তিনটি স্তম্ভ যদি আমরা দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করি, তবে দুনিয়া ও আখেরাতে ন্যায়-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে হক পথে চলার হিদায়াত দান করুন এবং অত্যাচার থেকে নিরাপদ রাখুন—আমিন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১৪ অপরাহ্ণ
  • ১৬:২২ অপরাহ্ণ
  • ১৮:০৫ অপরাহ্ণ
  • ১৯:১৮ অপরাহ্ণ
  • ৬:২০ পূর্বাহ্ণ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102