কুমিল্লা তিতাস, ডেস্ক রিপোর্ট:-
কুমিল্লার তিতাসের মজিদপুর ইউনিয়নের আশরাফুল আলম বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থেকেও দলের দুঃসময়ে গত ১০ বছর তিনি এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন আওয়ামী লীগ নেতাদের বিশ্বস্থ আস্থাভাজন হিসেবে।
তিনি উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের দরিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও তিতাস উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক।দীর্ঘদিন পতিত সরকারের ক্ষমতালোভি সেলিমা আহমাদ মেরী’র খুব কাছের মানুষ হিসেবে সে সময় তাকে চিনলেও বর্তমান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুনরায় এখন বিএনপির নেতাদের সাথে ভিড়তে দেখা যায়; ক্রমশ মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহণ করতেও দেখা যাচ্ছে তাকে। তবে তিনি মেরী’র কাছের ছিলেন না দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, মেরী’র হুমকির ফলে তার অফিসে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আশরাফুল আলম ২০২১ইং সালের অনুষ্ঠিত মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে বিজয়ী করতে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন এবং নিজে প্রার্থী হলেও বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে তা প্রত্যাহার করে নেন। এরপর এলাকায় আ’লীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে সব সময় কাজ করতে দেখা গেছে বলেও বিএনপির নির্যাতিত-পোড় খাওয়া অনেক ত্যাগীরা মন্তব্য করেন। এ নিয়ে দলের তৃণমুল নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আশরাফুল আলমকে সুবিধাবাদী উল্লেখ করে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নির্যাতিত-নীপিড়িত নেতা বলেন, বিগত দিনগুলোতে আওয়ামীলীগের সাথে আতাত করে বিএনপিকে ধংস করার পায়তারায় লিপ্ত ছিল আশরাফুল আলম। বর্তমানে আবারও ফ্যাসিস্টদেরকে পূনর্বাসন করতে, তিতাস উপজেলা বিএনপি’র কমিটিতে আসতে চাচ্ছে এই সুবিধাভোগী নেতা। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নিকট বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার অনুরোধও জানান তৃনমূলের নেতা-কর্মীরা।
এবিষয়ে আশরাফুল আলম মুঠো ফোনে ২টি ছবি তোলার বিষয়ে স্পষ্ট করে বললেও একাধিক ছবি ও ভিডিও নিয়ে তিনি ভাবেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম মজিদপুরের উন্নয়নের জন্য তার ঢাকার বাসায় সুধী সমাজকে ডাকলে, আমিও সেখানে যাই ও ছবি তুলি আর ইউপি নির্বাচনে আমি মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে তখনকার সময় এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী আমাকে বসে (প্রার্থীতা প্রত্যাহার) যেতে বলেন, কিন্তু আমি বসব না বলে অনড় থাকলে; তিনি আমাকে ফোর্স করে বাধ্য করেন তার অফিসে যেতে এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে। সেই সময় মেরী’র লোকজন আমাকে একটি ফুলের মালা পড়িয়ে দেন ও ছবি তুলেন। এর বাইরে আর কোন ছবি নাই। বিগত ১৫ বছর আমি বিএনপি’র কোন না কোন কমিটিতেই ছিলাম। এসব ছবি নিয়ে আমি ভাবি না।