শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
ঈশ্বরদীতে পৈত্রিক জমির বিরোধে বিষ প্রয়োগে ফসল নষ্টের অভিযোগ সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ট্রাস্ট বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় কৃষকদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর মাদ্রাসাগুলো যথাযথভাবে পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, শিক্ষামন্ত্রী আগুন, হাতুড়ি আর স্বপ্নের গল্প: ৯৬ বছর বয়সেও থামেননি কানু কর্মকার আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ও মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত কুমিল্লা তিতাসে সংঘর্ষের ঘটনায় রুমেল ভূইয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, সামনে আসছে নানা অভিযোগ গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ; দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জুলাইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস- এর দ্বিতীয় মৌসুমের রেজিস্ট্রেশন: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা “মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস” উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্য

“মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস” উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্য

আলী আহসান রবি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি :
শুক্রবার ২৬ শে জুন ২০২৬

২৬ জুন “মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস” উপলক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্মানিত সিনিয়র সচিব জনাব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সম্মানিত মহাপরিচালক জনাব মোঃ হাসান মারুফ।

এছাড়াও, উপস্থিত রয়েছেন সম্মানিত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ।

আজ ২৬ জুন—জাতিসংঘ ঘোষিত মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই কোনো একক রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; এটি সকল রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব এবং বৈশ্বিক অঙ্গীকার। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতির ফলে আজ পৃথিবী একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এ পরিণত হয়েছে। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য, এই আধুনিক বিশ্ব মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারের ভয়াবহ বিস্তারের কারণে গভীর উদ্বেগের মুখোমুখি। বিশ্বের কোনো দেশই এই সংকট থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয় — বাংলাদেশও নয়।

বাংলাদেশ বর্তমানে Demographic Dividend এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠী হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু, এই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে একটি বড় হুমকি ও অন্তরায় হলো অবৈধ মাদকের বিস্তার। ভবিষ্যতে উন্নত এবং সফল রাষ্ট্রের কাতারে উপনীত হতে হলে আমাদের তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে অবশ্যই মুক্ত রাখতে হবে।

মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এটি পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অমিত সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জাতীয় গবেষণায় উঠে এসেছে — দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। নতুন সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদক বা New Psychoactive Substances (NPS) এর আবির্ভাবের ফলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা ঘনীভূত হয়েছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো—মাদক পাচারকারী চক্র এখন প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল ব্যবহার করছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিশেষ করে – সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং Encrypted যোগাযোগ ব্যবস্থার সহায়তায় তারা তরুণদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।

নারী, শিশু-কিশোরসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা উপায়ে এই অপরাধচক্রের শিকার হচ্ছে। ফলে একদিকে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে মাদকাসক্তির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতার নিরিখে মাদক সমস্যা সমাধানে আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে।

বাংলাদেশ সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘zero tolerance’ নীতি অনুসরণ করছে এবং এই নীতির বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। Nodal agency হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাঠ প্রশাসন সমন্বিতভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেমন – বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ইত্যাদি তাদের নিজ নিজ অভিযানে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স এর মাধ্যমে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন ধরণের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। সীমান্ত এলাকায়ও মাদকের বিস্তার রোধে সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহের আন্তঃসমন্বয় এবং পারস্পরিক তথ্য বিনিময়ের ফলে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান গতিশীলতা পেয়েছে। জাতীয় স্বার্থে এ ধরণের আন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে টেকনাফে দুই মাদক চোরাকারবারি গ্রেপ্তার এবং ৫ লক্ষ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। ঢাকার উত্তরায় একটি অভিযানে ডার্ক ওয়েব-সংযুক্ত ল্যাব থেকে তিন বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার এবং ৬.৩ কেজি কেটামিন জব্দ করা হয়। গাজীপুরে পরিচালিত পৃথক পৃথক অভিযানে সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক ড্রাগস জব্দ করা হয়েছে। খুলনায় অভিযান পরিচালনা করে ফেন্সিডিলসহ ০৫ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ০৪ টি ম্যাগাজিন ৯৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন।

শুধু মাদক বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতাদের নয়, মাদক ব্যবসার মূল হোতা, অর্থলগ্নিকারী এবং মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ০৯ টি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে এবং বর্তমানে এ সংক্রান্ত আরও ২৩ টি অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

মাদকবিরোধী কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতায়ন এবং আইনকে যুগোপযোগীকরণের নিমিত্ত বাংলাদেশ সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশোধনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এ বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ পরীক্ষা (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। এই বিধিমালা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আমরা বিশ্বাস করি — প্রতিরোধই সর্বোত্তম উপায়। মাদকের চাহিদা কমাতে পারলে সরবরাহও কমে আসবে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মাদকের মরণ ছোবল থেকে যুবসমাজকে মুক্ত করার জন্য ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সারাদেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং প্রশিক্ষক ও মেন্টর তৈরির কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছে, যা মাদকের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মাদকাসক্তি একটি রোগ। যারা মাদকাসক্তির ফাঁদে পড়েছেন, তারা অপরাধী নন — তারা রোগী। মাদকাসক্ত রোগীদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃএকীকরণের নিমিত্ত সরকারি-বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা এবং মনো-সামাজিক কাউন্সেলিং প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি চিকিৎসার মানোন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মান উন্নয়নে সরকার অনুদান প্রদান করছে। এডিকশন প্রফেশনালদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার এমন একটি সমস্যা, যা শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। আইনের কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবার প্রতি আমার আন্তরিক আহ্বান—আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি। এ দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি এবং উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102