শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ছাগলকে ঘাস খাওয়ানো নিয়ে তুচ্ছ ঘটনার জেরে মোছাঃ রুববান (৩৯) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও দা দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে প্রতিবেশীরা। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) আসরের নামাজের পর আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের তাজপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত রুববান ওই এলাকার মোঃ জয়নাল সরকারের স্ত্রী। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাগলকে ঘাস খাওয়ানো কেন্দ্র করে রুববানের সাথে প্রতিবেশী প্রতিপক্ষের লোকজনের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিবাদ চরম রূপ নিলে অভিযুক্তরা রুববানের ওপর চড়াও হয়। তাকে এলোপাতাড়ি মারধরের পর একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে তার পায়ের নিচের অংশে নৃশংসভাবে কোপানো হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রুববান গুরুতর জখম হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় রুববানকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে (নিটোর) স্থানান্তর করা হয়।
সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে গতকাল দুপুর ২টার মধ্যে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রুববান মারা যাওয়ার মাত্র ২ ঘণ্টা আগে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন ১. মোঃ আলিয়া, ২. আলিয়ার মেয়ে জামাই রাসেল ও মেয়ে আলপনা,৩. স্বপ্না ও তার মা চায়না
৪. স্বপ্নার বাবা সেলিম।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তাজপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য ছাগলে ঘাস খাওয়া নিয়ে একজন নারীকে এভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এরা এলাকায় সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক।
এই বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।