ধামরাই প্রতিনিধি, মোঃ মশিউরজ্জামান মুবিন :
ঢাকার ধামরাই ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর সীমান্তবর্তী পাইকপাড়া ও ওয়ার্শী গ্রামের প্রায় ১৬ একর জমির ওপর আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়েছে বিশাল এক হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ কমপ্লেক্স। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি এলাকার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন হলেও বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ফলে হতাশা আর ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে।
দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি দেশের অন্যতম আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সুউচ্চ ভবন, প্রশস্ত সড়ক, আধুনিক ওয়ার্ড, প্রশাসনিক ভবন, চিকিৎসক ও নার্সদের আবাসন—সবকিছুই প্রস্তুত। কিন্তু বাস্তবে সেখানে নেই রোগীর ভিড়, নেই চিকিৎসকদের ব্যস্ততা, নেই কোনো প্রাণচাঞ্চল্য। কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো আজ যেন নীরব দাঁড়িয়ে আছে উদ্বোধনের অপেক্ষায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকা ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ধামরাই, সাটুরিয়া, মির্জাপুর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি আধুনিক হাসপাতালের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই চাহিদার বাস্তবতায় প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও প্রশাসনিক জটিলতা, জনবল সংকট এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে এখনো পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, হাসপাতালটি চালু হলে কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসা ভোগান্তি কমে যেত। বর্তমানে সামান্য জটিল রোগের চিকিৎসার জন্যও রোগীদের ঢাকায় যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এত বড় হাসপাতাল তৈরি হয়ে পড়ে আছে, কিন্তু আমরা কোনো সেবা পাচ্ছি না। রাতে জরুরি রোগী নিয়ে এখনো ঢাকায় দৌড়াতে হয়। হাসপাতালটি দ্রুত চালু হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে হাসপাতালটি চালু করা জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে অনেক সময় বড় বড় স্বাস্থ্য প্রকল্প নির্মাণ হলেও জনবল ও ব্যবস্থাপনার অভাবে সেগুলো কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারে না। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও অতীতে অব্যবহৃত হাসপাতাল ভবন, যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া এবং স্বাস্থ্যখাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির বিষয় উঠে এসেছে।
এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি—দ্রুত এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু করে জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক। কোটি কোটি টাকার এই স্থাপনা যেন আর অবহেলায় পড়ে না থাকে, সেই প্রত্যাশাই সবার।