শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় চিকিৎসা সেবার নামে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে চেম্বার থেকে দৌড়ে পালিয়েছেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম নামের এক তথাকথিত ভুয়া ডাক্তার। জামগড়ার চৌরাস্তা সংলগ্ন আর.এম. ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স-এ দীর্ঘদিন ধরে এই ভুয়া চিকিৎসক কোনো প্রকার বৈধ যোগ্যতা ছাড়াই চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কথিত ডাক্তার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাগত যোগ্যতা নেই। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এর ডাটাবেজ চেক করে দেখা গেছে তিনি যে রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি ব্যবহার করছিলেন, সেটি প্রকৃতপক্ষে অন্য একজন বৈধ চিকিৎসকের। অন্যের নিবন্ধন নম্বর জালিয়াতি করে নিজেকে বড় ডাক্তার পরিচয় দিয়ে বছরের পর বছর ধরে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন এই জাহাঙ্গীর।
ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকরা যখন তার চেম্বারে গিয়ে নথিপত্র দেখতে চান এবং সামনাসামনি প্রশ্ন করেন, তখন কোনো উত্তর দিতে না পেরে পেছনের দরজা দিয়ে এক কাপড়ে দৌড়ে পালিয়ে যান নামধারী এই ভুয়া ডাক্তার।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আর.এম. ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সটি মূলত মানুষের সেবা নয়, বরং সর্বনাশ করার একটি ফাঁদ। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
ভুয়া রিপোর্ট ও ভুল চিকিৎসা, দক্ষ টেকনিশিয়ান ছাড়াই মনগড়া ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট তৈরি এবং ভুয়া ডাক্তার দিয়ে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে রোগীদের জীবন সংকটাপন্ন করে তোলা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, এই পুরো ভুয়া ডাক্তার সিন্ডিকেটের মূল হোতা আর.এম. ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সের ম্যানেজার সোহেল। শিল্পাঞ্চলের লাখ লাখ পোশাক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এই ভুয়া ডাক্তারদের মাধ্যমে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
এই জালিয়াতি ও ভুয়া ডাক্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যানেজার সোহেল সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অত্যন্ত রাগান্বিত ও উগ্র আচরণ করেন। সাংবাদিকদের আইন ও নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে তিনি উল্টাপাল্টা গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করেন যা তার এই অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ বহন করে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, জামগড়ার আর.এম. ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সের মতো কসাইখানাগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা হোক মানুষের জীবন নিয়ে বাণিজ্য করা এই ভুয়া ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম এবং তার আশ্রয়দাতা ম্যানেজার সোহেলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও র্যাব-পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।