শান্ত পাহান (ঠাকুরগাঁও) :
পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সীমান্তের কোলে ঘেঁষা আমাদের ঠাকুরগাঁও জেলা। রাণীশংকৈল উপজেলার সিমান্তবর্তী ধর্মগড় চেকপোস্টটি ১৯৫৮-৬৫ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এই চেকপোস্ট স্থলবন্দরটি বন্ধ হয়ের ফেলে ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। পাশ্ববর্তী দেশে দুই দেশের মানুষকে কাঁটা তারের বেড়ায় একটু দূরে করে দিলেও কি হবে আত্মীয় স্বজন এবং চিকিৎসা ব্যবসা বানিজ্য করার জন্য ভারতীয় ভিসা দিয়ে ঠিকি যাওয়া আসা করা যায় ভারতে। ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী রাণীশংকৈল, পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর উপজেলার বাসিন্দারা জানান, আমাদের ধর্মগড় চেকপোস্ট স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় আমরা খুব বিপাকে পড়েছি। এজন্য আমরা পঞ্চগড় জেলার বাংলাবান্ধা, দিনাজপুরের হিলি, লালমনিরহাট, রাজশাহীর চাপাইনবাবগঞ্জ যশোর এর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যেতে হয়। এর ফলে আমাদের ঠাকুরগাঁও জেলা বাসিন্দাদের সময় বেশি লাগে এবং অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। দ্রুত যদি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় চেকপোস্ট স্থলবন্দর চালু করা করা হয়। তাহলে আমরা সবাই উপকৃত হবো। বাঁচবে সময় বাঁচবে টাকা অল্প সময়ে অল্প পথে আমরা সবাই যেতে পারবো ভারতে।
২০২৩ সালে (২৩) ফেব্রুয়ারী দেশের জাতীয় প্রিন্ট অনলাইন পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের পাকিস্তান সময়ের ১৯৫৮-৬৫ সালে বাংলাদেশ ধর্মগড় চেকপোস্ট এবং ভারতের উওর দিনাজপুর জেলার দেবীগঞ্জ স্থলবন্দরটি পুনরায় চালুর দাবিতে স্থানীয় এলাকাসী, আইনজীবী, নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও লং মার্চ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। এবং ধর্মগড়- দেবীগঞ্জ স্থলবন্দর বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কমিটির আয়োজনে উপজেলার চেকপোস্ট কাউন্সিল বাজারে স্থলবন্দর চালুর দাবিতে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন হাতে নিয়ে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছিলেন। স্থানীয় লোকজন, আইনজীবী, নেতাকর্মীরা উপজেলার কর্মরত বিভিন্ন অনলাইন, প্রিন্ট পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরের স্মারকলিপি প্রদান করেন। তৎকালীন রাণীশংকৈল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল সুলতান জুলকারনাইন কবির স্টিভ বলেছিলেন, স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে স্মারকলিপি পেয়েছি। আমি এটি চালুর বিষয়ে উর্ধ্বতন দপ্তরের নিকট প্রেরণ করবো। এই স্থলবন্দরটি চালু হলে রাণীশংকৈলের জীবনযাত্রার মান বদলে যাবে।
ধর্মগড়- দেবীগঞ্জ স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেহেদী হাসান শুভ বলেন, ১৯৫৮ সালে যখন এখানে চেকপোস্ট ও স্থলবন্দর চালু ছিল তখন এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ছিল। বর্তমানে প্রতিবছর এখানে ৩৭৩ ও ৩৭৪ নং পিলারের কাছে দুই দেশের মানুষের মিলন মেলা বসে। এপার ওপার বাংলার লাখ লাখ মানুষ এই মেলা অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০১ এর ৩ ধারা ও কাস্টমস আইন, ১৯৬৯ এর ৯ ধারার আইন প্রয়োগের মাধ্যমে আবার এই বন্দরটিকে চালু করে তাহলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ শির উঁচু করে দাঁড়াবে এবং এটি চালু হলে দেশের এলাকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা বাণিজ্যের অনেক উন্নয়ন হবে। তাই স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারে স্থলবন্দরটি পুনরায় চালু করা অনুরোধ ও দাবি করছি।
৩ বছর হয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি ধর্মগড় দেবীগঞ্জ স্থলবন্দর বন্দরটি। ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন করে তৈরি হচ্ছে, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। আবার বিমান বন্দর, কিন্তু রাণীশংকৈল বাসির ধর্মগড় স্থলবন্দর চালু দাবি এখনো পূরণ হলে না তাই তারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ঠাকুরগাঁও কৃতি সন্তান এবং বাংলাদেশ সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রী জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে দ্রুত ধর্মগড় চেকপোস্ট স্থলবন্দর চালু করা দাবি জানিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও জেলাবাসীর মনে একটা প্রশ্ন সবসময় ঘুর পাক খাচ্ছে কবে চালু হবে রাণীশংকৈল ধর্মগড় স্থলবন্দরটি।