বিশেষ প্রতিবেদন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঘোষিত তালিকায় দেখা গেছে, দলটি অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ নেত্রীদের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় এবং তরুণ নেতৃত্বকেও গুরুত্ব দিয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় নেত্রীদের পাশাপাশি নতুন মুখও স্থান পেয়েছেন, যা দলীয় কাঠামোয় ভারসাম্য আনার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হকসহ আরও অনেকে। তবে আলোচিত কয়েকজন নেত্রী এই তালিকায় জায়গা পাননি। বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন আফরোজা আব্বাস, সাবেক এমপি রুমানা মাহমুদ, নাসরীন আক্তার মুন্নী, সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীনসহ আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ। এ বিষয়ে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে, দলটির পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড গত দুই দিনে প্রায় ৯০০ মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে।
গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রক্রিয়ায় দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের নারী নেত্রীরা অংশ নেন। সাক্ষাৎকারে তারা নিজেদের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ এবং দলের প্রতি অবদান তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকার গ্রহণের শেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। ওই দিন পাঁচ শতাধিক প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে, যা সাধারণ আসনের ভিত্তিতে দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়। প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেতে যাচ্ছে ৩৬টি আসন। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ১৩টি আসন এবং অবশিষ্ট একটি আসন নির্ধারিত হবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে। সব মিলিয়ে এবারের তালিকায় অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে বিএনপি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।