শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
কুমিল্লা তিতাসে দলের দুর্দিনের পরীক্ষিত ত্যাগী কাণ্ডারী হাজী মহসিন খান প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ- ২১ কর্মকর্তার বিদেশ সফর সংক্রান্ত আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি অসত্য ও বানোয়াট হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ( বিএসসি) কতৃক ৩রা এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘মানবজমিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত “দুই জাহাজই খেয়ে নিলো দশ মিলিয়ন ডলার” শীর্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন সংবাদের প্রতিবাদ প্রশংসায় ভাসছেন এসিল্যান্ড মৌনা: সঠিক কাগজ দেখালেই মিলছে তেল, হরিণাকুণ্ডুতে নতুন নজির মিরপুর পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে ২০ তলা আবাসিক ভবনের প্রথম ৬ তলার শুভ উদ্বোধন করলেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সুন্দরবন থেকে অস্ত্র-গুলিসহ দুই বনদস্যু আটক, ৩ জেলে উদ্ধার সোনালী লাইফ এর 𝐁𝐫𝐚𝐧𝐜𝐡 𝐌𝐚𝐧𝐚𝐠𝐞𝐫𝐬 𝐌𝐨𝐧𝐭𝐡𝐥𝐲 𝐁𝐮𝐬𝐢𝐧𝐞𝐬𝐬 𝐃𝐞𝐯𝐞𝐥𝐨𝐩𝐦𝐞𝐧𝐭 𝐂𝐨𝐧𝐟𝐞𝐫𝐞𝐧𝐜𝐞 অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর পত্র হস্তান্তর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককরলেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মরহুম আবু তাহেরের নামফলক নেই দুই দশকেও — যৌথ বাহিনীর নীরবতা ভেঙে এবার মন্ত্রীর দরজায় সাংবাদিক আনজার শাহ

মরহুম আবু তাহেরের নামফলক নেই দুই দশকেও — যৌথ বাহিনীর নীরবতা ভেঙে এবার মন্ত্রীর দরজায় সাংবাদিক আনজার শাহ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:-

সরকারি নির্দেশনা আছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলক উন্মোচনও হয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যৌথ বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে। তবু কুমিল্লার ঐতিহাসিক লালমাই-বরুড়া-জগতপুর ভায়া ঝলম-আড্ডা সড়কের লালমাই প্রান্তে আজও স্থাপিত হয়নি মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের এমপি’র নামফলক। দুই দশকের এই প্রশাসনিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে এবার সরাসরি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের দরজায় পৌঁছে গেছেন সাংবাদিক মোঃ আনজার শাহ।
যেভাবে শুরু হয়েছিল এই দীর্ঘ লড়াই
বরুড়ার সোনাইমুড়ি গ্রামের সমাজসেবক মাওলানা ইউসুফ নিজামী দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে যৌথ বাহিনী প্রধানের (বরুড়া ও লাকসাম ইউনিট, কুমিল্লা) কাছে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। কিন্তু সেই অভিযোগের পরও প্রশাসনের তরফে কোনো সাড়া মেলেনি। যৌথ বাহিনী রয়ে যায় সম্পূর্ণ নীরব।
এই নীরবতার বিরুদ্ধে কলম ধরেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহ-দপ্তর সচিব এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আনজার শাহ। গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫, রবিবার দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার ব্যাক পেজে এবং ২৭ অক্টোবর ২০২৫, সোমবার স্থানীয় পত্রিকা কুমিল্লা প্রতিদিনে তিনি প্রকাশ করেন গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। সেই প্রতিবেদনের হেডলাইন ছিল —
“মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের সাবেক এমপির নামে নামকরণ হলেও দুই দশকেও স্থাপিত হয়নি ফলক।” রাষ্ট্রযন্ত্রের নজরে আসেনি, নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ।

সাংবাদিক আনজার শাহ জানান, জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও বিষয়টি রাষ্ট্রযন্ত্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই গভীর হতাশার প্রেক্ষাপটে তিনি নিজেই প্রকাশিত সংবাদের কাটিং সঙ্গে নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন কল্লোলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সংবাদের কাটিং দেখে একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন কল্লোল গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সাংবাদিক আনজার শাহের কাছে বিষয়সংক্রান্ত সকল দলিলপত্র ও প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে বলেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
দুই দশকের অসম্পূর্ণ ইতিহাস
২০০৪ সালের ২ অক্টোবর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ, সড়ক পরিবহন উইং থেকে আনুষ্ঠানিক স্মারকের (নং: পিসি/টিএস/এস-২/সড়ক-৩১/২০০৩-৭১০) মাধ্যমে লালমাই-বরুড়া-জগতপুর ভায়া ঝলম-আড্ডা সড়কটির নামকরণ করা হয় “মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের সড়ক” হিসেবে। এরপর ২০০৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বরুড়া পৌরভবনের সামনে কলেজ রোডের মোড়ে সড়কটির উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং “মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের সড়ক” নামে ফলক উন্মোচন করেন।
কিন্তু সেই উন্মোচনের পর থেকে আজ পর্যন্ত সড়কের উৎসস্থল লালমাই প্রান্তে সরকারি ডায়াগ্রাম অনুযায়ী কোনো নামফলক স্থাপন করা হয়নি। ফলে ঐতিহাসিক এই স্বীকৃতি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রত্যাশা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের এমপি কুমিল্লা অঞ্চলের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে যে অনন্য ও অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন, তাঁর নামে নামকৃত সড়কে একটি ফলকও না থাকাটা চরম অসম্মান ও ঐতিহাসিক দায়িত্বহীনতার প্রমাণ। এই সড়ক আজও কুমিল্লার দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের লাখো মানুষের প্রতিদিনের জীবনরেখা হয়ে আছে। অথচ যাঁর নামে এই সড়কের পরিচয়, তাঁর স্মৃতি রক্ষায় প্রশাসন আজও সম্পূর্ণ উদাসীন।
এলাকাবাসীর দৃঢ় প্রত্যাশা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ, কুমিল্লা এবার দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। লালমাই প্রান্তে “মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের সড়ক” নামফলক স্থাপনের মধ্য দিয়ে দুই দশকের এই বেদনাদায়ক ও অসম্পূর্ণ অধ্যায়ের চিরসমাপ্তি ঘটবে — এটাই এখন সমগ্র বরুড়াবাসীর একমাত্র প্রাণের দাবি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102