কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার হোমনায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস-২ ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খানের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সদরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকার ওভার ব্রিজের নীচে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানাগেছে, প্রচারনা শুরু প্রথম দিনে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টার দিকে কুমিল্লা-২ (হোমনা- তিতাস) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস-২ ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সাবেক মন্ত্রী মরহুম এম কে আনোয়ার সাহেবের কবর জিয়ারত শেষে।
উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জলিল সাহেবের কবর জিয়ার তের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। তার গাড়িবহর হোমনা ওভার ব্রিজের নিকট এলে একদল চিহৃত সন্ত্রাসী তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। এ সময় এম এ মতিন খানের সমর্থক হোমনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক জহরের গাড়ী ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মতিন খান বলেন, মরহুম এম কে আনোয়ার স্যারের কবর জিয়ারত করে শ্রীমদ্দি গ্রামের আরেক মুরুব্বি উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম আবদুল জলিল সাহেবের কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে বিএনপির প্রার্থী সেলিম ভূইয়ার অনুসারীরা আমার গাড়ি বহরে হামলা করে গাড়ী ভাংচুর করে। এতে আমার ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বিএনপি প্রার্থী সেলিম ভূইয়া তার পরাজয় নিশ্চিত জেনে আমাকে দুর্বল করতে এ বর্বর হামলা করেছে। এরা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে প্রকাশ্যে জনসভায় হুমকি দিলেও প্রশাসন তা আমলে নিচ্ছে না।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. সেলিম ভুইয়া মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হোমনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিনের বাড়িতে তল্লাসী চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। কিন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।