আন্তর্জাতিক রিপোর্টার, মো: সেলিম রানা :
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলাধীন মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে স্কুলের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ তদন্তের জন্য দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ওই প্রতিবেদন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করা হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রধান শিক্ষক কাজী মো. আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে, একই দুর্নীতির অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা দপ্তর, ঢাকা কর্তৃক পৃথকভাবে তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে অংশ নেন শিক্ষা পরিদর্শক ড. মো. দিদারুল আলম এবং অডিট অফিসার চন্দন কুমার দেব। দুই ধাপে পরিচালিত ওই তদন্তে মোট ১০,০০,৩৪৯২.০৫ টাকা (এক কোটি তিন লক্ষ চারশত বিরানব্বই টাকা পাঁচ পয়সা) আত্মসাতের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
সাময়িক বরখাস্তের পর প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীদের হেনস্তা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কমিটির সভাপতি গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দেবিদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আইন অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক এলাকার দরিদ্র মানুষের কষ্টার্জিত কোটি টাকার বেশি অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন এবং বহিরাগত লোকজন দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের হেনস্তা করেছেন। তারা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।