তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার তিতাসে ড্রেজার মালিকের কাছে চাঁ’দা দাবি, মা’রধর ও লু’টপাটের অ’ভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ বশির উদ্দিন (৪০) তিতাস থানায় লিখিত অ’ভিযোগ দায়ের করেছেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার ২নং জগতপুর ইউনিয়নের উজিরাকান্দি দক্ষিণপাড়া খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অ’ভিযোগে জানা যায়, স্থানীয় হুমায়ুন কবিরের বাড়ির পাশে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি ভরাটের কাজ করছিলেন বশির উদ্দিন। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই একটি চক্র তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁ’দা দাবি করে; চাঁ’দা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হু’মকিও দেওয়া হয়। ডিসেম্বর বিকেলে অ’ভিযোগের বি’বাদীপক্ষের ১০-১২ জন লোক লা’ঠিসোটা ও ধা’রালো অ’স্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে এবং পুনরায় চাঁ’দার টাকা দাবি করে। বশির উদ্দিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মা’রধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফু’লা-জ’খমের সৃষ্টি হয় বলে অ’ভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় হা’মলাকারীরা তার পরিহিত লুঙ্গি থেকে ব্যবসার নগদ ১ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা মূল্যের একটি রেডমি মোবাইল ফোন লু’ট করে নেয়। হা’মলা ঠেকাতে এগিয়ে আসা ড্রেজারের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম ও ফয়সাল মিয়াকেও প্র’হার করা হয়। হা’মলাকা’রীদের একজন ফয়সালের ব্যবহৃত পনের হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোনটি কে’ড়ে নেয় বলে অ’ভিযোগে বলা হয়। ঘটনার সময় ড্রেজারের অনেকগুলো পাইপ ভা’ঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১ লাখ ত্রিশ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। আ’হতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় মোঃ বশির উদ্দিন তিতাস থানায় লিখিত অ’ভিযোগ জমা দিয়েছেন। অ’ভিযোগে বি’বাদীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—মোঃ শাহিন মিয়া (৪৫),মোঃ রফিক মিয়া (৪০), মোঃ মহসিন মিয়া,
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৬০), মোঃ শফিক মিয়া (৩০), মোঃ রাসেল মিয়া (২৫), মোঃ শাহিন মিয়া (২৫), এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন।
ভুক্তভোগীর পরিচয় মোঃ বশির উদ্দিন (৪০),পিতা: মৃত নাজিম উদ্দিন, গ্রামঃ জগতপুর (১ম গোবিন্দপুর) ২নং জগতপুর ইউনিয়ন, তিতাস উপজেলা, কুমিল্লা। এলাকাবাসীর দাবি—বিভিন্ন সময় চাঁ’দাবাজি ও ভ’য়ভীতি প্র’দর্শনের মাধ্যমে একটি প্র’ভাবশালী চক্র এলাকায় আ’তঙ্ক সৃষ্টি করছে।
অ’ভিযোগ অস্বীকার করে রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা মিলেমিশে ড্রেজার ব্যবসা করার জন্য ষোল সদস্যের একটি কমিটি করি। কিন্তু বলা নেই কওয়া নেই, বেনজির ওরফে বেনু আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে আমাদেরকে বাদ দিয়ে ড্রেজার বসানো শুরু করে। ফলে ছোট ভাইয়েরা ক্ষি প্ত হয় এবং কয়েকটি পাইপ ভে ঙে ফেলে। আওয়ামী লীগের লোকজন এত সাহস পায় কই? উজিরাকান্দি বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহিন বলেন, আমরা চাই ড্রেজার বন্ধ হয়ে যাক। কেউই যাতে ড্রেজার চালাতে না পারে। কারণ সাধারণ মানুষের অনেক ক্ষ তি হয় ড্রেজারের কারণে। আমি বাঁ ধা দেওয়ার কারণে আমার দোকানে হা মলা চালায়।
এ বিষয়ে তিতাস থানা পুলিশ বলেন,অ’ভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।