বিশেষ প্রতিনিধি : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই উত্তাপ বাড়ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন চট্টগ্রাম-২ আসনকে ঘিরে- যেখানে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন অষ্টম শ্রেণী পাস এক বেটে নেতা।
দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন- ‘দলে কি শিক্ষিত নেতা ফুরিয়ে গেল?’
সোমবার (০৩ নভেম্বর) গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর এ তালিকা প্রকাশ করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঘোষিত তালিকা যেমন উৎসাহ জাগিয়েছে, তেমনি মিশে গেছে বিস্ময় আর হতাশাও। মনোনয়ন পেয়ে অনেকেই উচ্ছ্বাসে ভাসছেন, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী এলাকায় হতাশার দোলা স্পষ্ট।
চট্টগ্রাম-২–এ মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে অনলাইনে। কেউ বিদ্রূপ করছেন, ‘বই নয়, ব্যাগ নয়- আজকাল পকেটই নাকি রাজনীতির বড় যোগ্যতা’
প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে বেলা সাড়ে ১২টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন। টানা সাড়ে তিন ঘন্টা বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসলেন বিএনপি মহাসচিব।
দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে থাকা দলীয় নেতা ও তাদের কর্মী সমর্থকরা চাতক পাখির মতো তাকিয়েছিল বিএনপির গুলশান অফিসের দিকে। অবশেষে ২৩৭ আসনে সৌভাগ্যবানদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হলো। পছন্দের নেতার মনোনয়নের খবরে মুহুর্তেই ছয়লাভ হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ, অভিনন্দনের ঢেউ উঠে মোবাইলের স্ক্রীনে।
এরই মধ্যে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শুধু বিএনপিতেই নয়; বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানষে তাদের ফেসবুক ওয়ালে সমালোচনা করছেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মনোনয়ন বোর্ডের বিচক্ষণতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন খোদ দলীয় নেতাকর্মীরা। ওই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সরওয়ার আলমগীর নামের এক ধনকুবের। এই সরওয়ার আলমগীরের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী পাশ। শারীরিক বর্ণনা হলো তার উচ্চতা ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি। গায়ের রং কালো।
ফেসবুকে শতশত কমেন্ট করে জানতে চাওয়া হয়েছে- দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রার্থীর কী এমনই আকাল পড়েছে যে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি যিনি পার হতে পারেনি তাকে জাতীয় সংসদে আইন প্রণেতা হিসেবে নির্বাচিত করতে হলো? ওইআসনে কী তার চেয়ে শিক্ষিত ও অন্যান্যগুনের নেতা মিলেনি?
রাশেদুল ইসলাম নামের একজন লিখেছেন, ‘বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়া অষ্টম শ্রেণী পাশ তাই দলীয় মনোনয়ন দিতেও অষ্টম শ্রেণী পাশ ব্যক্তিকে খুঁজে নিয়েছেন।’
জুলহাস নামের একজন লিখেছেন, টাকায় যেহেতু সব কেনা যায় সরওয়ার আলমগীরও টাকা দিয়ে মনোনয়নটি বাগিয়ে নিয়েছেন।’
সরওয়ার আলমগীরকে ‘বিএনপির হিরো আলম’ আখ্যা দিয়ে তালুকদার কাওসার আলম লিখেছেন, প্রতিটি নির্বাচনেই জোকারের দরকার। এবার বিএনপি তাদের ২৩৭ আসনের একটিতে জোকার সরওয়ার আলমকে মনোনয়ন দিয়েছে’
তবে বিশেষ প্রতিনিধি এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সরওয়ার আলমগীর হেফাজতে ইসলামের একজন ডোনার। তিনি প্রতি বছরই ২/৩টি করে গরু/মহিষ ফটিকছড়ি হেফাজতে ইসলামের মাদরাসায় কোরবানীর জন্য ডোনেট করেন। এছাড়াও মাদরাসায় লক্ষ লক্ষ টাকা ডোনেট করে থাকেন। বিএনপির কাছে হেফাজতের একমাত্র চাওয়া ছিল সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন। এই সময়ে হেফাজতে ইসলামকে কাছে পেতে বিএনপি যেকোনো সমালোচনা হজম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২৩৭ প্রার্থীর মধ্যে, স্বল্প শিক্ষিত ও বেটে সরওয়ারকেই মনোনয়ন দিয়েছে।