তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
৪০ বছর ধরে পুরনো তালাচাবি,গ্যাসলাইট ও ছাতা মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন-
চারসন্তানের জনক ৭০ বছরের বৃদ্ধ শাহ আলম।তার বাড়ি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের উত্তরবলরামপুর গ্রামে। তিনি প্রতি সপ্তাহের রবিবার মাছিমপুর বাজার, সোমবার ঘারমোড়া বাজার, বুধবার বাতাকান্দি বাজার ও বৃহস্পতিবার শ্রীপুর বাজার হাটে মাটিতে একটি দোকান নিয়ে বসে পুরনো তালাচাবি, গ্যাসলাইট ও পুরনো ছাতা মেরামতের কাজ করে চালিয়ে যাচ্ছেন সংসার। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক তিনি। এরই মধ্যে বড় ছেলে খায়রুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে ছিলেন ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে তাকে দেশে ফেরত এনে চিকিৎসা করান তিনি। এতে তার সব জায়গা সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে। তারপরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয় নাই বলে জানান তিনি। এখন তিনি নিঃস। সে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনটা কন্যাসন্তান রেখে মা’রা যায়। সে মা’রা যাওয়ার পর থেকেই তার স্ত্রীসহ তিনটি কন্যাসন্তানের ভরনপোষণের দায় দায়িত্বও বৃদ্ধ শাহ আলমের উপর পড়ে যায়। তার আরেক ছেলে বর্তমানে বেকার। তিনি দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্ট করে। আর এতো বড় একটা সংসার চালাতে গিয়ে খেতে হচ্ছে হিমশিম বৃদ্ধ শাহআলমের।
সরকারি কোন সাহায্য সহায়তাও পান না ব’লে জানান তিনি।৭০ বছর বয়সী শাহ আলমের শারীরিক অবস্থাও এখন বেশী একটা ভালো না বলেও জানা গেছে। তারপরও জীবিকার তাগিদে তিনি প্রতিটি সাপ্তাহিক হাটে গিয়ে মাটিতে একটা দোকান নিয়ে বসে পুরনো তালাচাবি, গ্যাস লাইট ও ছাতা মেরামতের করে কয়েকটা টাকা উপার্জনের আশায়। সেখান থেকে যে টাকা উপার্জন হয় তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনরকম চলে তার সংসার।