শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের জামগড়া এলাকায় ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন জোনাল অফিসের চরম অব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিন কিংবা রাত কোনো নিয়ম ছাড়াই ঘন ঘন লোডশেডিং এবং টেকনিক্যাল ত্রুটির দোহাই দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র ৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের দেখা মেলে। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশের অন্যতম প্রধান পোশাক শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত জামগড়া ও এর আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার কলকারখানা রয়েছে। অব্যাহত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বড় বড় কারখানাগুলো বিকল্প উপায়ে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করলেও তীব্র ক্ষতির মুখে পড়েছেন ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনই সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কোনো কারণ ছাড়াই দিন-রাতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে মারাত্মক বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ না থাকলেও মাস শেষে আসছে আকাশচুম্বী বিল এমনটাই দাবি অধিকাংশ গ্রাহকের। এনালগ ও ডিজিটাল মিটারের রিডিংয়ের সাথে বিলের কাগজের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ ইউনিটের দাম বাড়ার পরও সেবার মান না বেড়ে উল্টো ভোগান্তি বেড়েছে।
এছাড়া এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, অথচ নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও বৈধ গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষায়, যাকে দিয়ে ভূত ছাড়াব, তাকেই যদি ভূতে পেয়ে বসে তাহলে আমরা বিচার চাইতে কার কাছে যাব?
বিল দিতে একদিন দেরি হলে জরিমানা দিতে হয়, কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা যারা গ্রাহককে হয়রানি করছে তাদের বিচার কে করবে?
গ্রাহকদের অভিযোগ, যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য জোনাল অফিসে ফোন দেওয়া হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা রিসিভ করেন না। মাঝেমধ্যে ফোন ধরলেও দেওয়া হয় দায়সারা ও অসংলগ্ন উত্তর।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জামগড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা অতিরিক্ত সিস্টেম লোড এবং জরুরি সংস্কার কাজকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে প্রতিদিন একই ধরনের সমস্যা কেন সৃষ্টি হচ্ছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেননি।
বিদ্যুতের এই চরম অব্যবস্থাপনা দ্রুত দূর করে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে শ্রমিক ও এলাকাবাসী রাজপথে নেমে আন্দোলনে বাধ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই বিষয়টিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন জামগড়াবাসী।