সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
দুর্গম এলাকায় দ্রুত যাতায়তের জন্য স্পিড বোড প্রদান করেন সিরাজগঞ্জ ৪ আসনের মাননীয় এমপি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রশিক্ষণ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাথে আজ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জলঢাকায় ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের চেয়ার নিয়ে নতুন বিতর্ক, জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ পিআরএল ছুটি গমনের দিনই পুলিশ সদস্যের হাতে লাম্পগ্রান্ট বিলের চেক তুলে দিলেন সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কুমিল্লা তিতাসে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাজউদ্দিন ভূঁইয়ার ব্যাপক গণসংযোগর ও প্রচারণা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের ‘গুড মুভ’, প্রার্থী কর্নেল অলি—চাপে বিএনপি পিরোজপুরের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত- সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সহ উপস্থিত ছিলেন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের ‘গুড মুভ’, প্রার্থী কর্নেল অলি—চাপে বিএনপি শিশুদের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে উদ্যোগ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জলঢাকায় ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের চেয়ার নিয়ে নতুন বিতর্ক, জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারী :

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ২ নম্বর ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বকে কেন্দ্র করে আবারও নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করে পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পেতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুল। তবে ওই আবেদনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আপত্তি তুলেছেন বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান আবু মুসা লালখা। তিনি দাবি করেছেন, চেয়ারম্যানের দাখিল করা আবেদনপত্রের সঙ্গে সব মামলার প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা হয়নি।

এ বিষয়ে তিনি বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নীলফামারীর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগপত্রে আবু মুসা লালখা উল্লেখ করেন, তিনি ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য এবং প্যানেল চেয়ারম্যান। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে দায়ের হওয়া জিআর নং-২৬৫/২০২৪, ৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখের জিআর নং-৩২০/২০২৪ এবং ২১ জুন ২০২৫ তারিখে দায়ের হওয়া জিআর নং-১২৩/২০২৫ মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর সাইফুল ইসলাম মুকুল দীর্ঘ সময় ইউনিয়নে অনুপস্থিত ছিলেন। এতে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩৩, ১০১ ও ১০২ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমোদনে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আবু মুসা লালখার ওপর ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে সাইফুল ইসলাম মুকুল সাময়িক ভাবে দায়িত্বে ফিরে এলেও ২০২৬ সালের ২১ জুন জলঢাকা থানা পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে।

এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে নীলফামারী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের লিখিত আদেশে পুনরায় আবু মুসা লালখাকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের বৈধতা দেওয়া হয়। এরপর তিনটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভের পর সাইফুল ইসলাম মুকুল পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। তবে আবু মুসা লালখার অভিযোগ, আবেদনপত্রের সঙ্গে জিআর নং-২৬৫/২০২৪ ও জিআর নং-১২৩/২০২৫ মামলার জামিনের কপি সংযুক্ত করা হলেও জিআর নং-৩২০/২০২৪ মামলার জামিনের অনুলিপি সংযুক্ত করা হয়নি। এছাড়া অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখনও একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং যে কোনো সময় আইনি জটিলতা বা গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন অবস্থায় তাকে পুনর্বহাল করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম আবারও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে আবু মুসা লালখা গণমাধ্যমকে বলেন, চেয়ারম্যান তিনটি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের কাছে দাখিল করা আবেদনপত্রে সব মামলার নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়নি বলে আমার জানা আছে। প্রশাসন যদি পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সব মামলার নথি, আদালতের আদেশ ও আইনগত অবস্থান যাচাই করে বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আমি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম মুকুলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে চলমান এ বিতর্কে এখন উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের আদেশ, প্রযোজ্য আইন এবং দাখিলকৃত নথিপত্র যথাযথ ভাবে পর্যালোচনা করেই প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102