কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা, মারধর ও বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের চার সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের দ্বিতীয় গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে মো. মনির হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত দুধ মিয়ার ছেলে জমির আলী প্রকাশ এসডুর প্রায় ১৫ বছর ধরে একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মনির হোসেনের দাবি, তার মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করে রেখেছিলেন জমির আলী।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, জমি পরিমাপ শেষে সালিশে মনির হোসেনের পক্ষেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে রোপণ করা একটি লিচুর চারা কেটে ফেলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
মনির হোসেনের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে জমির আলী প্রকাশ এসডুসহ তার সহযোগীরা তার বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং জমির মালিকানা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। এ সময় স্থানীয়রা মনির হোসেনকে জমির মালিক বলে জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বসতঘরে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি তাকে, তার স্ত্রী, মা ও মেয়েকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
হামলায় আহত হন মনির হোসেন (৫৮), তার স্ত্রী রহিমা বেগম (৪৫), মা আমেনা খাতুন (৮০) এবং মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার (২২)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় জমির আলী প্রকাশ এসডু (৫০), আলমগীর হোসেন (৩০), সিরাজুল হক সুরাত (১৭)সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন মনির হোসেন।
ভুক্তভোগী মনির হোসেন জানান, তিনি এ ঘটনায় তিতাস থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে সংবাদে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।সংবাদ সংগ্রহ সাংবাদিক রীপন।