আলী আহসান রবি :
ঢাকা, ২১ মে, ২০২৬
অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্যবৃন্দ স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আজ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
কমিশনের সদস্যরা জানান যে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, জবাবদিহিতা, নিরাপত্তা ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তারা ভবিষ্যতেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন।
আলোচনায় উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে যে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সুপারিশ প্রদান করা হয়েছিল, তার অনেক বিষয়ই এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের মতামত ও পরামর্শও প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে।
কমিশনের সদস্যরা বিশেষভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (Primary Health Care) শক্তিশালীকরণ ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি করার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, একটি শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে রোগের চাপ, চিকিৎসা ব্যয় এবং তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
এছাড়া কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশের সাথে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক ইশতেহারেরও উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, জবাবদিহিতা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং সেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত কর কমিশনের সদস্যদের বলেন যে, সরকার পর্যায়ক্রমে এসব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
এসময় স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক এ কে আজাদ খান এবং স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী, এম এম রেজা, ডা. আজহারুল ইসলাম প্রমুখ
উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য গত অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন গঠন করা হয় এবং তারা সরকারের নিকট সুপারিশ জমা দেয়।