মোঃ ফারুক আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নয়টি থানার পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও অপরাধ দমন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। জেলার বিভিন্ন থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, থানা পুলিশের নিয়মিত টহল, অভিযান ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে তাদের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা প্রশংসিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল বন্ধ করা এবং মহাসড়কে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে সেই দায়িত্ব কতটা কার্যকরভাবে পালন করা হচ্ছে, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ তিন চাকার অটোরিকশা, সিএনজি ও মাটি-ইটবোঝাই ট্রাক্টরের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল অব্যাহত থাকলেও এসব নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কঠোরতা খুব একটা চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, যেখানে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমানো ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হাইওয়ে পুলিশের মূল দায়িত্ব, সেখানে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশিতে অধিক মনোযোগ দেওয়ার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ মাদক, চোরাচালান ও অপরাধ দমনে জেলার নয়টি থানা পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবসহ একাধিক বাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
এ অবস্থায় অনেকেই মনে করছেন, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত মহাসড়কের শৃঙ্খলা, ঝুঁকিপূর্ণ যান নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা। কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেদের মূল দায়িত্ব থেকে কতটা সরে গিয়ে অন্য কার্যক্রমে বেশি সময় ব্যয় করছে কি না, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ও চোরাচালান সংশ্লিষ্ট নানা তৎপরতা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এ কারণে মহাসড়কে দায়িত্ব পালনের প্রকৃত চিত্র, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত সুবিধা বা প্রভাবক কাজ করছে কি না, তা নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তাহলে মহাসড়কের বাস্তব পরিস্থিতি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
জনসাধারণের প্রত্যাশা, থানা পুলিশের মতো হাইওয়ে পুলিশও তাদের মূল দায়িত্বে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ভূমিকা পালন করবে, যাতে মহাসড়কে দুর্ঘটনা, অনিয়ম ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।