সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
ফিলিস্তিনের প্রতি তথ্যমন্ত্রীর সংহতি প্রকাশ টেকনাফে জাল টাকার নোট প্রস্তুতকারী চক্রের গোপন আস্তানায় বিজিবি’র হানা এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন ডিএনসিসির প্রায় ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিআরসি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ এডিবির দ্রুত এবং সময়োপযোগী অর্থনৈতিক সাড়া ও অর্থায়ন দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ——- অর্থ মন্ত্রী দেশের সম্পদ মাটির নীচে রেখে আমদানি ভিত্তিক জ্বালানি নির্ভরতা বাড়িয়ে দেশের অনেক ক্ষতি করা হয়েছে, জ্বালানি মন্ত্রী নিরাপদ হাট ব্যবস্থাপনা ও জাল টাকা প্রতিরোধে সরকারের সর্বাত্মক ব্যবস্থা রয়েছে —মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী কুমিল্লা তিতাসের বলরামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সম্ভাব্যপ্রার্থী লিটন শিকদারকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

কুমিল্লা তিতাসে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির অধিকার থেকে বড় বোনকে বঞ্চিত করার পায়তারা

মো: রমিজ উদ্দিন
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লা তিতাসে সাতানী ইউনিয়ন রামভদ্রা গ্রামে রক্তের সম্পর্ক কি কেবলই স্বার্থের কাছে হার মেনে যায়? যে বোন আগলে রেখেছিলেন ছোট ভাইদের, বাবার অবর্তমানে সেই বোনই আজ নিজের পৈতৃক অধিকার আদায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিতাসের এক পরিবারের করুণ চিত্র এটি, যেখানে ওয়ারিশি সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে টালবাহানা করছেন ছোট দুই ভাই ও এক বোন।
তিতাস উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের রামভদ্রা গ্রামের মৃত করম আলীর তিন ছেলে ও চার মেয়ে। তার মৃত্যুর পর সকলের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝে পেলেও বড় ভাই মোতালেব ও বড় বোন হাওয়া বেগম তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝে পাননি। তাদের সাথে টালবাহানা শুরু করে মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, মোঃ সাত্তার মিয়া ও সেলিনা বেগম। এই তিনজন নানান ফন্দি করে তাদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দিচ্ছে না। তারা দখল করে ভোগ করছে। সম্পত্তি চাইতে গেলে মারতে আসে। কিসের সম্পত্তি তোদের? আইন অনুযায়ী বাবার সম্পত্তিতে কন্যা সন্তানের অধিকার সুষ্পষ্ট। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বড় বোন হাওয়া বেগমকে তাঁর ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত করতে নানা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন তাঁরই সহোদর দুই ভাই সাত্তার ও হাবিবুল্লাহ। কখনো সময়ক্ষেপণ, কখনো বা সম্পত্তির ভুল তথ্য দিয়ে বোনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও বড় বোনের ভাগ রয়ে গেছে কেবল কাগজ-কলমেই; বাস্তব দখল যেন এক সুদূরপরাহত স্বপ্ন।
পারিবারিক সম্মান আর লোকলজ্জার ভয়ে হয়তো এতদিন মুখ খোলেননি বড় বোন হাওয়া বেগম। কিন্তু ধৈর্যের বাঁধ যখন ভেঙে যায়, তখন অধিকার আদায়ের লড়াইটা হয়ে ওঠে অনিবার্য। স্থানীয় সালিশ-বৈঠক কিংবা আত্মীয়-স্বজনের মধ্যস্থতা, সবই যেন বিফলে যাচ্ছে ভাইদের একগুঁয়েমি আর লালসার কাছে।
সম্পত্তির জন্য যখন আপন ভাইয়েরা স্বামী, সন্তানের শরীরে আঘাত করে, তখন মামলা না করে কি উপায় আছে? তাই হাওয়া বেগম আদালতে মামলা ঠুকে দিয়ে নিজের পরিবারকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছেন।
ইসলামী শরিয়াহ এবং দেশের প্রচলিত আইন, উভয় ক্ষেত্রেই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ের সুনির্দিষ্ট অংশ নির্ধারিত। আইনজ্ঞরা বলছেন, ওয়ারিশি সম্পত্তি জোরপূর্বক আটকে রাখা বা বোনকে বঞ্চিত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সামাজিক এই ব্যাধি কেবল একটি পরিবারের শান্তিই নষ্ট করছে না, বরং নষ্ট করছে ভাই বোনের পবিত্র সম্পর্কের মর্যাদা।
এবিষয়ে সাত্তার মিয়াকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাদের জায়গা কেউ নিয়ে যায় নি। আমর তাদের জায়গা রেখেই, আমাদের জায়গা ভোগ দখল করছি। আমরা কাউকে মারিনি, তারা মিথ্যা কথা বলেছে। বরং তারা আমাদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দিয়েছে।
সম্পত্তির চেয়ে কি বড় বোনের মমতা বড় নয়? শেষ পর্যন্ত কি শুভবুদ্ধির উদয় হবে এই দুই ভাইয়ের? নাকি আইনি লড়াইয়ের তিক্ততার মধ্য দিয়েই সমাধান খুঁজবে এই বিবাদ? তিতাসের সাধারণ মানুষের দাবি, বড় বোন যেন পান তাঁর প্রাপ্য অধিকার, আর ভালোবাসা যেন টিকে থাকে সব স্বার্থের ঊর্ধ্বে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102