তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার তিতাসে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের মারামারি ঘটনায় উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫ টায় উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের হারাইকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহতরা হলেন- এক পক্ষেের মো. রুস্তম আলী (৬৫), তার দুই ছেলে প্রবাসী ফারুক ইসলাম (৪২), কবির হোসেন (৩৫) ও সালমা আক্তার (৩৫)। অপর পক্ষের কামাল হোসেন (৫৬), ইকবাল হোসেন (৫৩) ও মনির হোসেন (৫০)। এদের মধ্যে রুস্তম আলী গুরুতর আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার মৃত জমশের আলীর ছেলে রুস্তম আলী ও মৃত আইয়ুব আলী মোল্লার ছেলে কামাল, ইকবাল ও মনির হোসেনদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন আছে। তারই জের ধরে সোমবার দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি রুস্তম আলীর পক্ষের লোকজন এলাকাবাসীকে জানালে বিকেলে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়। আহতরা তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন।এদিকে আহত কামাল হোসেন বলেন, “আমি বিল্ডিং কাজ ধরেছি আজ এক বছর চলে, রুস্তম আলীর ছেলে ফারুক, কবির ও ছবির আমার নিকট চাঁদা চেয়ে আসছে। আমি দেইনি বলে সোমবার বিকালে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আবার আমার নিকট চাঁদা দাবি করে, আমি চাঁদা না দেওয়ায় আমার ওপর হামলা করে। তিনি আরও বলেন, জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত থেকে আমরা রায় পেয়েছি সোমবারের ঘটনা জায়গার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। এই ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
অপর পক্ষ আহত ফারুক হোসেন জানান, “আমাদের প্রতিবেশী মৃত আয়ুব আলীর ছেলে কামাল, ইকবাল ও মনিরদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
এনিয়ে এলাকায় একাধিকবার বিচার সালিশ হয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। তারপরও তারা জোরপূর্বক আমাদের জায়গা দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ করতে গেলে আমরা বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষরাসহ আরো ৫-৭ জন পূর্বপরিকল্পিত ভাবে লাঠিসোঁটা ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ডুকে আমাদের হামলা চালায়। এবং আমার বাবাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আমরা বাঁচাতে গেলে আমাকে ও আমার ভাই ও আমার স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করে।
আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই” তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ মো: খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, হারাইকান্দি গ্রামের ঘটনায় পৃথক দুইটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।