মো.শফিকুল ইসলাম মতি, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর সদর উপজেলায় ভেলানগর মহল্লায় এক সাংবাদিকের বাড়ি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে জেলা প্রেসক্লাব নরসিংদীতে এসে সহকর্মীদের সাথে বর্ননা দিতে গিয়ে তিনি জানান গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দুপুরে একই এলাকার প্রভাবশালী বাছেদ ও ব্যাংকার শরীফ আহম্মেদ ভাড়াটে লোকজন নিয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে প্রবেশ করে মালামাল বাইরে ফেলে দেয় এবং বাড়ীটি দখল করে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক একেএম তৌহীদুজামান আরো জানান, ভেলানগর মৌজায় তার নিজ বসত বাড়ীটি গত বছরের সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখে ৭০ লক্ষ টাকা ধায্যকরে মোট ৩৩ লক্ষ টাকা পরিশোধ করার পর একটি রেজিস্ট্রি বায়না করেন এবং আব্দুল বাছেদ ও জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা শরীফ আহম্মেদ বরাবরে পাওয়ার অব এটনী দলিল করে দেন ঐ সাংবাদিক।
পাওয়ার অব এটনিতে উল্লেখ করেন বাড়ীর সমস্ত ঝামেলা সম্পন্ন করে বাকী টাকা পরিশোধ করে বাড়ী বুঝে নিবে ক্রেতারা। কিন্তু তারা বাকী টাকা পরিশোধ না করেই সাংবাদিককে বাড়ী ছাড়ার জন্য সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে নরসিংদী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়। তারা আবারো কোর্টে তাদের আ্ইন জীবী দ্বারা হুমকি দেয়। যা বারকাউন্সিলের সভাপতি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তারা ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকলে সেনাবাহীনীকে লিখিত অভিযোগ করা হয়। বহীরাগত লোকজন দিয়ে হামলার হুমকি দিতে থাকে, এবং গত বছরের ১৪ অক্টোবর পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকের বাড়িতে আক্রমণ করলে বাংলাদেশ সেনাবাহীনীকে আবার অবগত করলে ঐ সাংবাদিক এর পর দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা এবং তাদেরকে সমাধানের জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু আলোচনায় না বসে ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে থানায় আরো একটি জিডি দায়ের করা হয়। এর পর সাংবাদিক তৌহিদুজামান পাওয়ার অফ এটনীর চুক্তি ভঙ্গের কারনে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন যাহার নং ১৬/২৫, এবং অপর মামলার নম্বর ১০২৭ যা বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তধীন আছে। অপর দিকে সাংবাদিকের টাকা পরিশোধ না করে প্রবাসী আকরাম হোসেনের নিকট বাড়ীটি বিক্রি করে দেয়। তারপর তারা সাংবাদিককে উচ্ছেদ করার জন্য একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করে।
উক্ত মাময়ায় বিচারক দুইজন আইনজীবীর উপস্থিতে টাকা পরিশোধ করে আপোষে গেলেও বাকী ২০ লক্ষ টাকা ও ক্রয়কৃত রাস্তার টাকা সহ আনুসাঙ্গিক যাবতীয় ঝামেলা না ভেঙ্গেই বাড়ীর দখল নিয়ে নেয়। সম্প্রতি একটি মহল তার ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে যেন মামলা গুলো উঠিয়ে নেওয়া হয়, তারা শেষ সাংবাদিকের বাড়িটি দখল করে নেয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় দখলকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে। অন্যদিকে, দখলকারীদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, বাড়ীসহ জায়গাটি ক্রয় করে মালিকানাধীন।
এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানা ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। দুই পক্ষেরই আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, আদালতের রায়ের আলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।