দিদার আহমেদ, কুমিল্লা হোমনা (প্রতিনিধি) :
হোমনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে কটুক্তির জেরে মাজারে হামলা ও বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় হোমনা থানায় মামলা হয়েছে। থানার উপ-পরিদর্শক তাপস চন্দ্র বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুই হাজার লোককে আসামি করে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এ মামলা করেন। এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার নেই।
জানাগেছে, উপজেলার আছাদপুর গ্রামের ফকির বাড়ির মরহুম কফিল উদ্দিনশাহর নাতি মহসিন তার ফেসবুক আইডি বেমজা মহসিন এই আইডিতে গত বুধবার সকাল ১০ টা ৫২ মিনিটে নবী (স.) নিয়ে কটুক্তি করে পোস্ট দেন। এই পোস্টে যা ছিল হুবহু তুলে ধরা হলো – যারা আউলিয়া তাদের পুত্র সন্তান হয়, যারা দেউলিয়া তাদের কন্যা সন্তান হয়, নবী মোহাম্মদ খুব খারাপ মানুষ ছিলেন তাই তার পুত্র সন্তান হয়নি, বর্তমান পীর সাহেব নবীর চেয়ে বেশি পবিত্র, তাই তাদের পুত্র সন্তান হইছে।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট একই আইডি থেকে মহসিন আরেকটি পোস্ট করেন এই পোস্টে সে লেখে আছাদপুর ফকির বাড়িতে, দানবাক্স চুরি হইছে, মাজারে গেইটে, ঘরে তালা লাগানো অবস্থায় চুরি হচ্ছে, ভাবতে অবাক লাগে এই চুরি কি আল্লাহ করেছে নাকি অন্য কিছু। পোস্টে আরো অনেক কিছু লেখে।
পরে মহসিনের এ পোস্টে উপজেলার মুসলিম জনতা এর বিচার দাবিতে ফুঁসে ওঠে। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে হোমনা থানা পুলিশ মহসিনকে গ্রেফতার করে। পরে উপজেলা ইসলামী যুবসেনার নেতা শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠায়।
পরে নবীজি (স.) কে নিয়ে কটুক্তিকারীর ফাঁসির দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার আসাদপুর গ্রামে সভা করে মুসলিম জনতা। সভায় উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাইদুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাওলানা তাইজুল ইসলাম এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন এলাকায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সকলকে সতর্ক করেন। এরপরেও বিক্ষুব্ধ জনতা কফিল উদ্দিনশাহর মাজারে হামলা করে মাজারের কিছু জিনিসপত্র ভাংচুর করে। মাজারের ভিতরে থাকা কাথা বালিশ পুড়িয়ে ফেলে। একই সাথে মহসিন এর ঘরে আগুন দেয়। এরপর উত্তেজিত জনতা একই এলাকার কালু শাহ, হাওয়ালী শাহ (বাবুল) ও আবদু শাহ এর মাজারেও সামান্য ভাঙচুর করে।
হোমনা থানার কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, মাজারে হামলা বাড়ি অগ্নি সংযোগের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।
হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, কেউ অপরাধ করলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার হবে, তবে কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেন।
চারটি মাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ কফিলউদ্দিন শাহর মাজারের ছবি দেওয়া হলো।