রাজিবুল হক রনি :
দেশে চলমান সন্ত্রাস, হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের অবসানে অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোট। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির মধ্য দিয়ে দেশকে কার্যত সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি শফিকুল আলম বাবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফার সঞ্চালনায় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা হলেও প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। মনে হচ্ছে, প্রশাসন সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
নেতারা অভিযোগ করেন, দুই দিন আগে ভোলায় এক আলেমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে ঢাকার চকবাজারে প্রকাশ্যে এক ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়। গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে মিথ্যা চুরির অপবাদে একজন শ্রমিককে রাতভর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই জেলায় শত মানুষের সামনে একজন সাংবাদিককেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, “অসংখ্য হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও খুনের ঘটনা ঘটছে। কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। রাত গভীর হলেই সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। রাস্তায় চলাচল জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নেই।”
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা
নেতারা আরও বলেন, দেশে এখন চলছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। একে অপরকে দোষারোপ করা ছাড়া রাজনীতির অন্য কোনো কাজ নেই। কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সিনেমার শুটিংয়ের দৃশ্যকে ‘বিএনপি হামলা’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। অথচ তা ছিল নিছক অভিনয়। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা দেশের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করছে।
বক্তারা মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশকে এই অরাজকতা থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনই একমাত্র সমাধান।
তারা বলেন, “সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও উদার গণতন্ত্র চর্চার উদ্দেশ্য পূরণের জন্যই আমরা মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আজ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে সকল রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ না করে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।