রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর —-তথ্য প্রতিমন্ত্রী তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬৭ জন গ্রেফতার রাজধানীর খেলার মাঠ উন্নয়নে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিদর্শন টিম পাট খাতের উন্নয়নে জেডিপিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে- বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম কুমিল্লা তিতাসে এমপি অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়াকে গণসংবর্ধনা খুলনায় পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু: নীরব যন্ত্রণার আড়ালে এক মানবিক বার্তা কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে সামগ্রিক অর্থনীতি মজবুত হবে —মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী জলবদ্ধতা দূরীকরণ, চাষাবাদ বৃদ্ধি ও প্রকৃতি বাঁচাতে খাল খনন অব্যাহত রাখা হবে ‎——- পানি সম্পদ মন্ত্রী বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে মুগদা থানা পুলিশ

বাঘায় ৪৫ বছরে সাড়ে ৩’শ অধিক কবর খুঁড়েছেন দুলাল ও রতন

আবুল হাশেম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫
  • ২০৫ বার পড়া হয়েছে

আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরোঃ

রাত-দিনের যেকোনো সময় মানুষের মৃত্যুর সংবাদ শুনলেই ছুটে যান। মরদেহের মাপ নিয়ে খোঁড়া শুরু করেন কবর। তবে এজন্য নেন না কোনো পারিশ্রমিক। কবর খোঁড়াই যেন তার নেশা হয়ে গেছে। প্রায় ৪৫ বছর এভাবেই বিনা পারিশ্রমিকে এলাকার মৃত মানুষদের জন্য কাজটি করে যাচ্ছেন তারা। এখন পর্যন্ত এভাবে প্রায় ৩৫০ কবর খুঁড়েছেন।

বলছিলাম রাজশাহী বাঘা উপজেলার, বাউসা ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ডের, চকবাউসা গ্রামের মোঃ দুলাল(৬৫) ও মোঃ রতন আলী (৪২) এর কথা। মোঃ দুলাল আলী দুই ছেলের জনক। তারা পেশায় কখনো কৃষি কাজ, কখনো ব্যবসার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবুও কবর খুঁড়ে কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেন না তারা।

জানা যায়, বাঘা উপজেলার আড়ানী, বাউসা, সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কবর খুঁড়েন এই মোঃ দুলাল(৬৫) ও মোঃ রতন আলী (৪২) সহযোগী হিসেবে প্রায় সময় সাথে থাকেন চকবাউসার সাবুর ছেলে রতন, মোঃ মনিরুল ইসলাম সহ অনেকেই।

মোঃ রতন আলী বলেন, আমার বাবার মৃত্যুর পর থেকে আমি কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করি । তখন ১৯-২০ বছরের যুবক ছিলাম। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ বছরে ৩০০ থেকে ৩৫০ মৃত মানুষের কবর খুঁড়েছি। বাবার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আমি এই কাজ করি। করোনাকালে সবাই ভয়ে মরদেহ থেকে দূরে চলে যেত। সেই সময়েও আমরা কবর খুঁড়ার কাজ চালিয়ে গিয়েছি। আমার টাকা-পয়সার কোনো লোভ নেই। করব করে কারো কাছ থেকে হাদিয়া বা টাকা পয়সা নিই না । এমন কি অনুষ্ঠানেও খেতে যাই না। মৃত ব্যক্তির কবর করা নেশা হয়ে গেছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যদি দেয় আখিরাতে কিছু পাব।

দুলাল হোসেন আরও বলেন, আমি প্রায় ৪৫-৫৬ বছর ধররে কবর তৈরি করে আসছি, অনেক সময় গোরস্থানে রাত ১২-১ টার সময় ঝড়, বৃষ্টি ভেদ করেও কবর তৈরি করতে গিয়েছি। কবর খনন করতে গিয়ে আমাদের অনেক গল্প ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। কোনো কবর তৈরি করতে গিয়ে পুরান কঙ্কাল পেলে ওই কবরে জায়গা করে গুঁজে রাখি। তবে এ পর্যন্ত কোন কবর খুঁড়তে গিয়ে কখন ভয় বা কোন সমস্যা হয়নি আল্লাহ্ আমাদের সাথে থাকেন আমাদের সাহায্য করেন এটাই আমরা মনে করি।

দুলাল ও রতন বলেন আমরা কবর খননকালে অনেক আপনজন কে নিজ হাতে কবর খনন করে তাদের দাফন সম্পন্ন করেছি, রাত দুইটা-তিনটায়ও কেউ যদি তাকে খবর দেয়, তারা কবর তৈরি করতে খুন্তা, কোদাল, বালতি, বেলচা, দা, করাত নিয়ে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে হাজির হন। মৃত ব্যক্তির দেহ মাপ দিয়ে শুরু করেন কবর তৈরির কাজ। এখন পর্যন্ত ৩৫০ অধিক মানুষের বিনা পয়সায় কবর তৈরি করে দিয়েছেন। তবে কারও কাছ থেকে পারিশ্রমিক নেয়নি।

এলাকাবাসী সকলেই বলেন তারা সাধারণ এক কৃষক-শ্রমিক, তবে তারা মৃত্যু খবর পেলেই ছুটে চলে যান মৃত্যুের বাড়িতে। বিনিময়ে কোনো টাকা নেন না। এ রকম মানুষ সমাজে খুব কম পাওয়া যায়। একজন দিনমজুর হয়েও পরোপকারী মানুষ তারা।

পরিশেষে তারা সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন যেন তারা যতদিন বাঁচেন যেন সুস্থ থাকেন। জীবনের শেষ সময়েও যেন কবর খুঁড়ে মানুষ কে সহযোগিতা করতে পারে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102