মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
গাবতলি বাস টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করলেন আইজিপি ও ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ অনুদান ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কাছে ডিএসসিসির ঈদ অনুদান হস্তান্তর করলেন ডিএসসিসি প্রশাসক ট্রাইব্যুনালে জয়, গেজেটে নাম—তবু চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসতে পারছেন না বজলুল হক খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে ইউএনসিটিএডি-র মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলেন সেতু সচিব খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে ——-আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপজেলার ৩ নং ধনতলা ইউনিয়ন পরিষদে ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ চাউল সুষ্ট ভাবে বিতরণ করা হয়েছে সিটি-জেলা পরিষদ কি বিএনপির পুনর্বাসন মঞ্চ? বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে UNODC প্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: পুলিশ সংস্কার ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আশ্বাস

বাঘায় ৪৫ বছরে সাড়ে ৩’শ অধিক কবর খুঁড়েছেন দুলাল ও রতন

আবুল হাশেম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৯৪ বার পড়া হয়েছে

আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরোঃ

রাত-দিনের যেকোনো সময় মানুষের মৃত্যুর সংবাদ শুনলেই ছুটে যান। মরদেহের মাপ নিয়ে খোঁড়া শুরু করেন কবর। তবে এজন্য নেন না কোনো পারিশ্রমিক। কবর খোঁড়াই যেন তার নেশা হয়ে গেছে। প্রায় ৪৫ বছর এভাবেই বিনা পারিশ্রমিকে এলাকার মৃত মানুষদের জন্য কাজটি করে যাচ্ছেন তারা। এখন পর্যন্ত এভাবে প্রায় ৩৫০ কবর খুঁড়েছেন।

বলছিলাম রাজশাহী বাঘা উপজেলার, বাউসা ইউনিয়নের ০৬নং ওয়ার্ডের, চকবাউসা গ্রামের মোঃ দুলাল(৬৫) ও মোঃ রতন আলী (৪২) এর কথা। মোঃ দুলাল আলী দুই ছেলের জনক। তারা পেশায় কখনো কৃষি কাজ, কখনো ব্যবসার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবুও কবর খুঁড়ে কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেন না তারা।

জানা যায়, বাঘা উপজেলার আড়ানী, বাউসা, সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কবর খুঁড়েন এই মোঃ দুলাল(৬৫) ও মোঃ রতন আলী (৪২) সহযোগী হিসেবে প্রায় সময় সাথে থাকেন চকবাউসার সাবুর ছেলে রতন, মোঃ মনিরুল ইসলাম সহ অনেকেই।

মোঃ রতন আলী বলেন, আমার বাবার মৃত্যুর পর থেকে আমি কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করি । তখন ১৯-২০ বছরের যুবক ছিলাম। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ বছরে ৩০০ থেকে ৩৫০ মৃত মানুষের কবর খুঁড়েছি। বাবার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আমি এই কাজ করি। করোনাকালে সবাই ভয়ে মরদেহ থেকে দূরে চলে যেত। সেই সময়েও আমরা কবর খুঁড়ার কাজ চালিয়ে গিয়েছি। আমার টাকা-পয়সার কোনো লোভ নেই। করব করে কারো কাছ থেকে হাদিয়া বা টাকা পয়সা নিই না । এমন কি অনুষ্ঠানেও খেতে যাই না। মৃত ব্যক্তির কবর করা নেশা হয়ে গেছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যদি দেয় আখিরাতে কিছু পাব।

দুলাল হোসেন আরও বলেন, আমি প্রায় ৪৫-৫৬ বছর ধররে কবর তৈরি করে আসছি, অনেক সময় গোরস্থানে রাত ১২-১ টার সময় ঝড়, বৃষ্টি ভেদ করেও কবর তৈরি করতে গিয়েছি। কবর খনন করতে গিয়ে আমাদের অনেক গল্প ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। কোনো কবর তৈরি করতে গিয়ে পুরান কঙ্কাল পেলে ওই কবরে জায়গা করে গুঁজে রাখি। তবে এ পর্যন্ত কোন কবর খুঁড়তে গিয়ে কখন ভয় বা কোন সমস্যা হয়নি আল্লাহ্ আমাদের সাথে থাকেন আমাদের সাহায্য করেন এটাই আমরা মনে করি।

দুলাল ও রতন বলেন আমরা কবর খননকালে অনেক আপনজন কে নিজ হাতে কবর খনন করে তাদের দাফন সম্পন্ন করেছি, রাত দুইটা-তিনটায়ও কেউ যদি তাকে খবর দেয়, তারা কবর তৈরি করতে খুন্তা, কোদাল, বালতি, বেলচা, দা, করাত নিয়ে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে হাজির হন। মৃত ব্যক্তির দেহ মাপ দিয়ে শুরু করেন কবর তৈরির কাজ। এখন পর্যন্ত ৩৫০ অধিক মানুষের বিনা পয়সায় কবর তৈরি করে দিয়েছেন। তবে কারও কাছ থেকে পারিশ্রমিক নেয়নি।

এলাকাবাসী সকলেই বলেন তারা সাধারণ এক কৃষক-শ্রমিক, তবে তারা মৃত্যু খবর পেলেই ছুটে চলে যান মৃত্যুের বাড়িতে। বিনিময়ে কোনো টাকা নেন না। এ রকম মানুষ সমাজে খুব কম পাওয়া যায়। একজন দিনমজুর হয়েও পরোপকারী মানুষ তারা।

পরিশেষে তারা সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন যেন তারা যতদিন বাঁচেন যেন সুস্থ থাকেন। জীবনের শেষ সময়েও যেন কবর খুঁড়ে মানুষ কে সহযোগিতা করতে পারে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১১ অপরাহ্ণ
  • ১৬:২৬ অপরাহ্ণ
  • ১৮:১১ অপরাহ্ণ
  • ১৯:২৪ অপরাহ্ণ
  • ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102