কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার হোমনায় ভিটি জায়গা দখল-বেদখল নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাইয়ের হাতে জেঠাতো ভাইকে ছুড়ি দিয়ে পেট কেটে ভুরি বের করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২৪ আগস্ট রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ফুল্লাকান্দি দক্ষিণ পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রফিকুল ইসলাম বেঙ্গা (৬৫) ওই গ্রামের মৃত ছুনু মিয়ার ছেলে এবং ঘটনায় অভিযুক্ত অলেক মিয়া একই বাড়ীর মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ও নিহতের চাচাতো ভাই। রফিকুল ইসলামকে হত্যার পর বাড়ীতে গিয়ে রফিকের পরিবারের উপর অতর্কিতে হামলার সময় স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানায়, ছয়ফুল্লাকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আমজাদ হোসেন, আবুল মিয়া ও প্রতিবেশী আমির আলীদের সাথে জায়গা নিয়ে পুর্ব বিরোধ চলে আসছিলো রফিকুল ইসলামের সাথে এবং গত কয়েক বছর ধরে তাদের জায়গা জমি নিয়ে বহুবার দেন-দরবারও হয়েছে। তবে কোন মিমাংসা দিতে না পাড়ায় বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়।
নিহতের স্ত্রী রাশিদা বেগম জানান, আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে “আমজাদ হোসেন, আবুল হোসেন, প্রতিবেশী আমির আলী, দেবর আব্দুল করিম প্রকাশ কমিক মিয়াসহ তিন পরিবারের ১০/১২জন মিলে ১০ লাখ টাকা ঘোষণা দিয়েই আমার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। আমি বিষয়টি জানিয়ে হোমনা থানায় অভিযোগ করেও আমার স্বামীকে বাঁচাতে পারলাম না। আজ সকালে আমার স্বামী পঞ্চবটি ঔষধ আনতে গেলে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীরা হামলা করে। এরপর ছয়ফুল্লাকান্দি “রাধা মন্দিরের সামনে” ফেলে ছুড়ি দিয়ে আমার স্বামীর পেট কেটে ভুরি বের করে হত্যা করে। খুনিরা আমার বাড়িতে এসেও আবার আমাদেরকেও মারার জন্য স্বদলবলে হামলা চালায়। পরে গ্রামবাসি অলেককে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।”
এ বিষয়ে হোমনা থানা অফিসার ইনচার্জ (ও.সি) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যতটুকু দেখেছি জায়গা দখল-বেদখল নিয়েই তাদের দ্বন্দ্ব ছিলো। সে কারণেই এ হত্যাকান্ড হয়েছে বলে ধারণা করছি। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় মূল অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।