রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর —-তথ্য প্রতিমন্ত্রী তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬৭ জন গ্রেফতার রাজধানীর খেলার মাঠ উন্নয়নে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিদর্শন টিম পাট খাতের উন্নয়নে জেডিপিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে- বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম কুমিল্লা তিতাসে এমপি অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়াকে গণসংবর্ধনা খুলনায় পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু: নীরব যন্ত্রণার আড়ালে এক মানবিক বার্তা কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে সামগ্রিক অর্থনীতি মজবুত হবে —মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী জলবদ্ধতা দূরীকরণ, চাষাবাদ বৃদ্ধি ও প্রকৃতি বাঁচাতে খাল খনন অব্যাহত রাখা হবে ‎——- পানি সম্পদ মন্ত্রী বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে মুগদা থানা পুলিশ

‘সত্য লিখে বাঁচা সম্ভব না’ – বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু সেই নির্মম বাস্তবতার দলিল

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৭০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সাংবাদিকতা মূলত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এক দুরূহ পেশা। কলম হাতে নেওয়া মানেই ক্ষমতার সামনে মাথা নত না করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তোলা। অথচ এই সত্য বলার দায়িত্বই আজ সাংবাদিকদের জন্য হয়ে উঠছে মৃত্যুর ফাঁদ। প্রখ্যাত সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের লাশ আমাদের সামনে শীতল অথচ গভীর এক সত্য উন্মোচন করে দিয়েছে—এই দেশে সত্য লিখে বাঁচা সম্ভব নয়।

সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার জীবনের প্রতিটি পরতে সত্য বলার চেষ্টা করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপসহীন ছিলেন। দুর্নীতি, রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা সমাজের গোপন অন্ধকার—যে দিকেই চোখ পড়েছে, কলম থামিয়ে রাখেননি। কিন্তু এরই ফল হিসেবে বারবার হুমকি, ভয়ভীতি, চাপ এবং অবশেষে মৃত্যুর নির্মম বাস্তবতা তাঁকে গ্রাস করেছে। তাঁর লাশ যেন সাংবাদিক সমাজের জন্য এক প্রতীক—যে প্রতীক প্রমাণ করে, এখানে সত্যের মূল্য এখনো রক্তে পরিশোধ করতে হয়।

এমন মৃত্যু কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ সংকেত। কারণ, সাংবাদিকের কলম যদি থেমে যায়, তবে সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—সত্য উচ্চারণকারী কণ্ঠগুলোকে নিশ্চুপ করে দেওয়ার এক অশুভ প্রবণতা দেশে ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

আজ প্রশ্ন উঠছে—একজন মানুষ সত্য লিখতে গিয়ে প্রাণ হারাবে, অথচ রাষ্ট্র চুপচাপ থাকবে কেন? গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু কাগজে-কলমে থাকবে, বাস্তবে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে জীবন কাটাবে—এ কেমন গণতন্ত্র?

বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর লাশ শুধু শোক নয়, আমাদের কাছে এক কঠিন বার্তা রেখে গেছে—“সত্য লিখে বাঁচা সম্ভব না”। তবে আমরা যদি নীরব থাকি, যদি কলমকে ভয়ে আটকে রাখি, তবে সেই বার্তাই স্থায়ী সত্য হয়ে যাবে। অথচ ইতিহাস সাক্ষী, কোনো দমননীতি কখনো সত্যকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সত্যের শক্তিই একদিন অন্ধকার ভেদ করে আলো ছড়ায়।

আজ প্রয়োজন, সাংবাদিক সমাজের ঐক্য, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের সোচ্চার ভূমিকা। বিভুরঞ্জন সরকারের আত্মাহুতি যেন শেষ মৃত্যু না হয়, বরং হোক এক নতুন জাগরণের সূচনা। আমরা চাই না আর কোনো সাংবাদিকের লাশ প্রমাণ হয়ে দাঁড়াক যে এই দেশে সত্য লিখে বাঁচা যায় না।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102