কুমিল্লা বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
পবিত্র ঈদুল আযহা কে সামনে রেখে চলছে কুমিল্লা তিতাসের বিভিন্ন স্থানে ৪ জুন বুধবারের পশুর হাট চলছে সারাদিন ব্যাপী। সেই ন্যায়ে তিতাস উপজেলার ৬ নং ভিটিকান্দি ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড দুলারামপুর বাজারের অস্থায়ী পশুর হাট বেশ জমে ওঠেছে।
দুলারামপুর অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক সাবেক মেম্বার সুমন আহমেদ বলেছেন আমরা যথেষ্ট নিরাপত্তা রেখেছি ও তিতাস থানা ওসির নির্দেশে পুলিশ পাহারায় রয়েছে। আমাদের বাজারে অনেক গবাদিশু ওঠেছে ও অনেক ক্রেতাও আছে আশাকরি,ভালো গরু বিক্রি হবে। ভিটিকান্দি ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম জানিয়েছেন আমাদের এই দুলারামপুর পশুর হাটে ভালো গরু ওঠেছে এবং ভালো বিক্রি হচ্ছে।
দুলারামপুর অস্থায়ী পশুর হাটে সার্বিকভাবে সহযোগিতা যারা করেছেন
মো: মাইনউদ্দিন সরকার, মো:সেলিম মাষ্টার, মো: আবদুল হউক, মো:আতাউর রহমান রতন, মো: হযরত আলী মাষ্টার, মো: নূর আলম, মো: শরীফ সার, মো: জহির মাষ্টার, মো: জাহাঙ্গীর, মো: নূরআলম, মো:শাহআলম সরকার, মো: শাহা আলম, মো: নিজামউদ্দিন।
যুবকদের মধ্যে ভূমিকা রেখেছেন বাজারের নিরাপত্তায় মাহাবুব হাছান নিরব,মো:সোহেল রানা মাষ্টার, মো: সাদ্দাম সরকার, নবাব, মো:শাহপরান, মো:শরীফ। অপরদিকে তিতাস উপজেলায় কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১২ হাজার গবাদিপশু অধিক।
কুমিল্লার তিতাসে এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১২ হাজার গবাদিপশু। এরমধ্যে ৯ হাজার ৫৭৮টি গরু, ২ হাজার ২৮৩টি ছাগল ও ১২০টি ভেড়া। চাহিদার তুলনার ঘাটতি রয়েছে ৮৬৮টি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি হাট দুইদিন বসতে বাধ্যতামূলক করায় কিছুটা বিপাকে আছে ইজারাদারগণ।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কোরবানি উপলক্ষে প্রায় ১৩ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় পশুর যোগান কিছুটা ব্যবধান থাকলেও তেমন পশুর মূল্য নিয়ে নৈরাজ্য না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরেও পশু সম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন পশু কেনা-বেচায় নৈরাজ্য ঠেকাতে মাঠে থাকবে বলে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার ১৫টি পশুর অস্থায়ী হাটের মধ্যে ১৪টি ইজারা দেওয়া হয়েছে। গাবতলী সরকার বাড়ি অস্থায়ী পশুর হাটের কোন দরপত্র না পড়ায় সেটি বিশেষ বিবেচনায় বাতিল করা হয়েছে। মূলত জুনের ২ তারিখ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত এ হাটগুলো বসবে।
অস্থায়ী পশুর হাটের একাধিক ইজারাদার বলেন, গত কয়েকদিন যাবৎ উপজেলার সর্বত্র দিনের অধিকাংশ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকছে। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। তার উপর প্রশাসন দুই দিন করে বাজার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে না থাকলে অধিকাংশ বাজারের ইজারাদার তাদের ইজারাকৃত ও বাজার ব্যবস্থাপনার টাকা তুলতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে।
সোনালী ব্যাংক পিএলসি তিতাস শাখার ম্যানেজার সন্জিত কুমার দেবনাথ বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অস্থায়ী পশুর হাটে উপজেলার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখার উদ্যোগে জাল টাকা সনাক্তকরণের মেশিন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাল টাকা সংক্রান্ত অরাজকতা ও নৈরাজ্য ঠেকাতে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সব পশুর হাটে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যেখানে প্রয়োজন সেখানে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিক বসানো হচ্ছে। সেখানে ভেটেরিনারি সার্জন পশুদের চিকিৎসা দিবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া মমিন বলেন, অস্থায়ী পশুর হাট মনিটরিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে।