নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পাট অধিদপ্তরে দায়িত্বরত বাংলাদেশ সরকারের উপ-সচিব সৈয়দ ফারুক আহম্মদ তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মৃত-পিতাকে বাংলাদেশ কল্যাণ ট্রাস্টে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ভুক্ত করেন। মৃত্যুর সনদ মতে তার বাবা মীর শওকত আলীর মৃত্যুর ১১ মাস ৫ দিন পরে তার জন্ম হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও মীর শওকত আলীকে শহীদি খেতাব অর্জন করান। যাহার গেজেট নং ৯০৩। মীর শওকত আলীর পৈত্রিক বাড়ি ভারতবর্ষে। ১৯৭১ সালের পূর্বে হিন্দু বাড়ি বিনিময় করে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আসেন। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ, যুদ্ধ শুরু হলে মীর শওকত আলী ও তার পিতা মুছা আলী ভারতবর্ষে চলে যায়। জানা যায়, ভারতে মীর শওকতের চাচাদের সাথে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদে মীর মুছা আলী ও মীর শওকত আলী দুজন মারা যান। সৈয়দ ফারুক আহম্মদ খুবই চতুর ব্যক্তি। সে টাকা ও রাজনৈতিক জোর খাটিয়ে জাল-জালিয়াতি কাগজপত্রের মাধ্যমে মৃত বাবাকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে উপ-সচিব। জনাব ফারুক আহম্মদ ২২তম বিসিএস ক্যাডারের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ টাকার জোর খাটিয়ে নিজের এলাকায় পিতা-মাতার ও নিজ নামে সড়ক ও ফটক তৈরী করেন।
এই ব্যাপারে কেউ কিছু বললে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিবেন বলে ভয় ভীতি দেখান তিনি। অত্র এলাকায় একজনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন নাম শাহাবুদ্দিন, পিতা-বাকামিয়া, মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং-২৭৬১ অথচ তার নামে এলাকাতে একটি ক্লাবও আছে। সৈয়দ ফারুক আহম্মদের বাবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের জন্য জৈনক মজিবর রহমান মোল্লা বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্তসহ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন। যার নং ৬৯৭০/২১ইং।
তার মা মিসেস নাসিমা বেগম ৬ মার্চ ২০২৪ ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। সৈয়দ ফারুক আহম্মাদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে ১৩/৩/২০২৪ ইং তারিখে মৃত বাবা মীর শওকত আলীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের জন্য তার নিজের নামে আবেদন করেন। সেখানে আবেদন ফরমটি অসম্পূর্ণ। মীর শওকত আলীর স্ত্রী ১২/১০/১৯৯৭ইং তারিখে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার জন্য আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ফাইলটি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরজমিনে তদন্ত করানো হয়। প্রতিবেদন মতে জানা যায় শহীদ মীর শওকত আলী ১৬/৯/১৯৭১ইং সালে যশোর জেলার মহেশপুরে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। জাতীয় পরিচয়পত্র মোতাবেক সৈয়দ ফারুক আহম্মদের জন্য ২১ আগস্ট ১৯৭২ ইং। তার জন্য এবং তার দাবার মৃত্যুর সময়ের মধ্যে পার্থক্য ১১ মাস ০৫ (পাঁচ) দিন। সে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধার কোটায় চাকরি নেন। একাধিকবার গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীরা এই বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য তার অফিসে গেলে অফিসে অবস্থান করেও সে অফিসে নেই বলে জানান। এ বিষয়ে ফোনে জানতে চাইলে সে কাউকে কোন সদ উত্তর না দিয়ে নাম্বার ব্লক করে দেন। এতে প্রতিয়মান হয় যে ঘটনাটি প্রমাণিত। সে তার পিতার মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বাবদ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নিকট ১৯৯৭ইং সন হইতে ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। বিষয়টি রাষ্ট্রের সাথে প্রতারনা ও রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের কৌশলবলে এলাকাবাসী মনে করেন ২০২১ ইং সালে এ বিষয়ে তার সম্পর্কে একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়, শিরোনাম “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিসিএস ক্যাডার” সৈয়দ ফারুক আহম্মদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। মৃত। মীর শওকত আলীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বাতিল ও রাষ্ট্রীয় অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য গত ১৬ই মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে রাষ্ট্রের স্বার্থে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নিকট আবেদন করেন। ধার্য তারিখে সৈয়দ ফারুক আহম্মদ হাজির হননি। সে অসুস্থ, তার দেহে ৬টি রিং স্থাপনা করেন এই অযুহাতে দুই মাস সময়ের আবেদন করেন।
বাংলাদেশ কল্যাণ ট্রাস্ট এর কর্মকর্তা মোঃ জামিল আহাম্মেদ (অতিরিক্ত পরিচালক কল্যাণ)। তিনি অভিযোগকারীর স্বাক্ষর ও সাক্ষীগনের সাক্ষ্য রেখে তাদের বিদায় দেন।
বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও মিডিয়ার সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান করতে গিয়ে সৈয়দ ফারুক আহম্মদের সম্পর্কে জানতে পারেন যে, নামে ও বেনামে ঢাকাতে একাধিক ফ্ল্যাট ও ব্যাংক একাউন্ট এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে শতো, শতো বিঘা জায়গা সম্পত্তি ও অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বিষয়টি স্থানিয় প্রশাসনকে তদন্তের মাধ্যমে বের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানানো হইল।